গুরুদাসপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতায় পাঠদান ব্যাহত

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গুরুদাসপুরের রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে- সোনার দেশ

বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জমে হাঁটুজল। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে তিনটি ভবনের কক্ষে। তখন নিয়মিত পাঠদানসহ বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি ও খেলাধূলা। গত তিনদিনের বৃষ্টিতে ওই বিদ্যালয়টিতে স্থায়ী রূপ নিয়েছে জলাবদ্ধতা। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠটি অপেক্ষাকৃত অনেক নিচুতে তাই বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের নালাও নেই। এ কারণে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে বিদ্যালয়টি।
এ কারণে বর্ষাকালীন তিন থেকে চার মাস স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয় বিদ্যালয়টিতে। সেইসঙ্গে অ্যাসেম্বলি ও খেলাধূলা বন্ধ থাকে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এসএমসি)র সদস্যবৃন্দ মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েও স্থায়ী সমাধান হয় নি।
এদিকে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের মাঠ ও তিনটি ভবনের কক্ষে পানি জমেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রথম সাময়িকী পরীক্ষা দিচ্ছে। তিন কক্ষের অপেক্ষাকৃত উঁচু একটি ভবনে গাদাগাদি করে নেয়া হচ্ছে তাদের পরীক্ষা। বিদ্যালয়ের অন্য তিনটি ভবনে পানি জমে থাকায় আসবাবপত্র, আলমারি ও চেয়ার বেঞ্চ নষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো রশি দিয়ে বেঁধে আলমারির ওপরে রাখা হয়েছে বলে জানালেন প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম।
প্রধান শিক্ষক আরো জানান, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি কাছিকাটা বাজারের মাঝে অবস্থিত। বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে একটি পাকা সড়ক ‘কাছিকাটা-চাটমোহর সড়ক’ রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে বিদ্যালয়ে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি নালা নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঠটিতে মাটি ভরাট করায় সেই নালাটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া সড়ক ও বাজারটি উঁচু হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি এসে জমে বিদ্যালয় মাঠে। ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিনশত ছাত্রছাত্রীর পাঠদান বিঘ্নিত হয়। বর্ষাকালীন তিন-চার মাস বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কম থাকে। এছাড়া টয়লেটগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে।
আসমানি, কবিতা ও মায়শা নামে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, মাঠে ও শ্রেণিকক্ষে পানি জমে থাকার কারণে তারা খেলাধূলা ও অ্যাসেম্বলি করতে পারছে না। গাদাগাদি করে তিনটি কক্ষে তাদের পাঠ নিতে হচ্ছে। অসর্তকতায় মাঠে জমে থাকা পানিতে পড়ে গিয়ে পোষাক ও বইখাতা ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের। আবার পানি শুকিয়ে গেলেও মাঠ ও শ্রেণিকক্ষগুলো কাদা পানিতে শ্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি বিশ্বনাথ পাল জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা অতিকষ্টে পড়ালেখা করছে। শিক্ষকদেরও পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিষদের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষা এলেই বিদ্যালয়টিতে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়। বরাদ্দ না থাকায় বাস্তব ভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তিনি।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন গতকাল দুপুরে জানান, বিদ্যালয়টির এমন দুর্দশা প্রত্যক্ষ করতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিদ্যালয়টিতে যান তিনি। বিদ্যালয়ের মাঠে ও তিনটি ভবনের কক্ষে পানি জমে থাকা ও গাদাগাদি করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার বিষয়টি ব্যথিত করেছে তাকে। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক। স্থানীয় উইপি চেয়ারম্যান ও বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ কোমলমতি এসব শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা’ তাদের ভাবা উচিত ছিল। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পানি নিস্কাশনের স্থায়ী উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।