গুরুদাসপুরে ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি, প্রশাসন নিশ্চিুপ

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি



নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার হাট-বাজারে ফেরী করে বিক্রি হচ্ছে অতিথি পাখি। এক শ্রেণির পেশাদার ও মৌসুমি পাখি বিক্রেতাদের ফেরি করে ও বাজারের মোড়ে বসে এসব অতিথি পাখি বিক্রি করতে দেখা  গেছে। প্রকাশ্যে এমন অতিথি পখি বেচা কেনা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে না কোন পদক্ষেপ।
গত মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চাঁচকৈড় হাটে আব্দুস সাত্তার (৫০) নামে এক পাখি বিক্রেতাকে ফেরি করে পাখি বিক্রি করতে দেখা গেছে।  এসময় তার হাতে ১২টি অতিথি পাখি ছিল। প্রতিহালি পাখি ২হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি কর দরে বিক্রি হচ্ছিল। অনেককেই দরদাম করে কিনতে দেখা গেছে। পখি বিক্রেতা সাত্তারের বাড়ি পৌরসভার চাঁচকৈড় বাজারে গত ২০ বছর ধরে তিনি এ পেশার সাথে জড়িত।
সাত্তারের জানান, তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ধরনের পাখি কিনে এনে বিক্রি করেন। তাছাড়া একটি চক্র যশোহর, দিনাজপুর ও হাওড় অঞ্চল থেকে অতিথি পাখি তার কাছে পৌঁছে দেয় বিক্রির জন্য। এসব পাখি জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ীদের বাসা-বাড়িতে পৌঁছে দেন তিনি। এসব পাখির মধ্যে বক, বালিহাঁস, শারস, পানকৌরী। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে  ঢাকাতেও পাখি সরবরাহ করেন। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই তিনি এ পেশায় টিকে রয়েছেন বলে জানান।  এক শ্রেণির লোভী মানুষ চলনবিল থেকে বক, পানকৌড়, ঘুঘু, শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখি ধরে হাটে বাজারে বিক্রি করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি নেমে যাওয়ায় চলনবিলের খাল-বিল, জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। শুকিয়ে যাওয়া এসব জলাশয়গুলোতে মিলছে পুঁটি, খলসে, দারকেসহ ছোট ছোট সব মাছ। এসব মাছ খাওয়ার লোভেই চলনবিলে আশ্রয় নিয়েছে ঝাঁকে ঝঁকে বকের দলসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। বিষটোপ-বড়শিসহ নানা প্রকার ফাঁদ পেতে নির্বিচারে শিকার করা হ্েছ এসব অতিথি পাখি।  কয়েকজন পাখি শিকারি জানালেন, চলনবিলের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, তাড়াশ-চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে খুঁটি পুঁতে কলাপাতা, খেজুর ডাল দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি করেছেন ফাঁদ।
জাহিদুল ও ইয়ারুল ইসলাম নামে দুই ব্যক্তি জানালেন, এখন ঝাঁকে ঝাঁকে বক ধরা পড়ছে। প্রতি জোড়া বক ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখেছেন তারা। তবে গ্রামাঞ্চলে আরো কম দামে বিক্রি হয়। বড়াইগ্রাম উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের এক বক শিকারি বলেন, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৬০টি বক ধরেন তিনি। হাট-বাজারে নেওয়ার সাথে সাথে তা বিক্রি হয়ে যায়।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস বলেন, পাখি বিক্রির বিষয়টি তার জানা  নেই।  তাছাড়া বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব বন বিভাগের।
গুরুদাসপুর বনবিভাগের সহকারি কর্মকর্তা আল-ইয়াদুল বারী বলেন, পাখি শিকার ও বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত রয়েছে। কিন্তু জনবল কম থাকায় অভিযান সফল হচ্ছে না।