গুরুদাসপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আপডেট: জুন ৩০, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কুমারখালী ও সিংড়া উপজেলার সোনাপুর গ্রামে  ৩৪২ জন নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেয়ার নামে কুমারখালী গ্রামের মসলেম মোল্øা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিন থেকে চারলাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় তিনি স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
ভুক্তভোগী এসব গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) ্আসনের সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের বিশেষ বরাদ্দের (মাস্টারপ্লান) আওতায় গেল এক বছর আগে নাটোর পল্øীবিদ্যুৎ সমিতি-২  কুমারখালী ও সোনাপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার টানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে  কুমারখালী গ্রামে  ২৮০ এবং সোনাপুর গ্রামে ৬২জন গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক তারা বাড়িতে ওয়্যারিঙের কাজও শেষ করেছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো দেয়া হয় নি।
কুমারখালী গ্রামের আমিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, সোনাপুর গ্রামের  হাজি খবির উদ্দিন, কামাল মিস্ত্রি¿ বাবলু মোল্লা ও সুলতার আহম্মেদ অভিযোগ করেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দিতে মসলেম মোল্লা নিজে ও তার  নিয়োগ করা বাবু প্রামানিক, শাহিনুর রহমান ও মনিরুল ইসলামের মাধ্যমে অফিস খরচ বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন এসব গ্রাহকের কাছ থেকে। কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হলেও তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পান নি। পরে তারা বিদ্যুৎ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, মিটার সংযোগের জন্য  ৬৫০ টাকা ছাড়া বাড়তি কোন খরচ লাগে না। অথচ মিটারের টাকা এসব গ্রাহকরা আগেই জমা দিয়েছেন।
কুমারখালী গ্রামের ্আল্উাদ্দিন ও মাজেদ আলী অভিযোগ করেন,  বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ মসলেম নিজেই তাদের দুইজনের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। তাদের মতো দুইটি গ্রামের ৩৪২ জন  গ্রাহকের কাছ থেকে মসলেম মোল্লা  তিন থেকে চারলাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মসলেম স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ও দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার স্বার্থে  কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না।
মসলেম মোল্লা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি কোন গ্রাহকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেননি এবং কাউকে নিয়োগও করেননি। তার প্রতিপক্ষ এসব অপপ্রচার করছেন। তবে মসলেমের নিয়োগ করা বাবু প্রমানিক টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি মসলেম মোল্লার কথায় গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা তুলে মসলেমকে জমা দিয়েছেন।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২এর ডিজিএম আবদুুল হালিম বলেন,  বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মিটার বাবদ ৬৫০ টাকা ছাড়া বাড়তি কোন টাকার দরকার হয় না। কেউ বাড়তি টাকা দিয়ে থাকলে দায়দায়িত্ব তার নিজের। তবে বিদ্যুৎ সংযোগে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে ডিজিএম বলেন, সাংসদের বরাদ্দের বৈদ্যুতিক লাইনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করে থাকে বিধায় তার পক্ষে প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়। এব্যাপারে সাংসদ আবদুল কুদ্দুস বলেন,এলাকা কতিপয় ব্যক্তি ্এসব গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগ  তার কাছে রয়েছে। তিনি দুষ্টচক্রের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। টাকা আদায় হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ দিবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ