গুরুদাসপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: জুলাই ৫, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


গুরুদাসপুরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রামবাসী-সোনার দেশ

তিন বছর আগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কুমারখালী ও সিংড়া উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বৈদ্যুতিক লাইন টানা হয়। ওয়্যারিংসহ সকল প্রক্রিয়া শেষও করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না দুই গ্রামের ৩৪২ পরিবার। ফলে এসব পরিবারগুলো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ প্রত্যাশী পরিবারগুলোতে দ্রুত সংযোগ চালু করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে গ্রামের মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুমারখালী গ্রামের সড়ক অবরোধ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ওই সংবাদ সম্মেলন করে। গ্রামবাসীরর পক্ষে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জশমত উল্লাহ প্রামানিক। বক্তব্য দেন মজিবর রহমান, রজব আলী, সাকাওয়া আলী মোল্লা, আবদুুল মান্নান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুমারখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মসলেম মোল্লা। সম্মেলনে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী ছাড়াও গ্রামের দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুই ধাপে সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের বিশেষ বরাদ্দের (মাস্টারপ্লান) আওতায় নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এলাকা কুমারখালী ও সোনাপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার টানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে কুমারখালী গ্রামে ২৮০ এবং সোনাপুর গ্রামে ৬২জন গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক তারা বাড়িতে ওয়্যারিংয়ের কাজও শেষ করেছেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো দেয়া হয় নি।
এলাকাসী অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুতের জন্য অপেক্ষা করছেন গ্রামের মানুষ। বিভিন্্ন দফতরে ধর্না দিচ্ছেন কিন্তু সংযোগ লাগছে না। সংযোগ না লাগার কারণে বিদ্যুতহীন দিন কাটাচ্ছেন দুইটি গ্রামের মানুষ। এতে তাদের সন্তানদের পড়ালেখাসহ প্রাত্যহিক জীবন-যাপনে পিছিয়ে থাকছেন। প্রকৃত কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তারা।
তবে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের আস্থাভাজন বলে পরিচিত কুমারখালী গ্রামের মসলেম মোল্লা বিদ্যুৎ সংযোগের নামে এসব গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেন। এনিয়ে গ্রামবাসী বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাংসদ গ্রাম দুইটিতে বিদ্যুতের সংযোগ দিচ্ছেন না। এনিয়ে ৩০জুন দৈনিক সোনার দেশসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে ‘বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদও প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর মসলেম মোল্লা তার অনুগত গ্রামবাসিদের নিয়ে বিদ্যুতের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।
তবে বিদ্যুতের দাবিতে আয়োজিত গ্রামবাসীর সাংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মোসলেম মোল্লা দাবি করেন, তিনি গ্রাম দুইটিতে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে অনেক চেষ্টা-তদবীর করেছেন। এতে ইর্ষান্বিত হয়ে কতিপয় ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করাসহ সাংসদের কাছে বিরাগভাজন করার অপচেষ্টা করছেন। বিভ্রান্তি দূর করতে গ্রামবাসীকে নিয়ে সমাবেশ করেছি। সমাবেশে উপস্থিত কেউই টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেন নি।
এ ব্যাপারে সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ওই গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এ কারণে স্থানীয় সাংসদসহ সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেই সংযোগ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর উপব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবদুুল হালিম জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রতিবেদন এখনো তাদের দফতরে পৌঁছে নি। ফলে সংযোগ চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে না।