গুরুদাসপুরে মেয়র সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ মেয়রসহ ২৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার দুই

আপডেট: মে ১৩, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


গুরুদাসপুরে পুলিশের সঙ্গে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মেয়রকে বহনকারী মোটরসাইকেলের বহর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ঢুকতে বাধা দেয়া হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে, রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে ও লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী। এসময় পাঁচ পুলিশ সদস্য মেয়রের পাঁচ সর্মথকসহ ১০ জন আহত হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আহত মেয়র সমর্থদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওইদিন রাতেই পুলিশকে মারধর ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগ এনে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী ও তার সমর্থক উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান শাহ, পৌর আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুুস সালাম মোল্লা, জেলা পরিষদের সদস্য ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান সরকার, পৌর আ’লীগের সভাপিত তাহের সোনার ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামানসহ ৬৭ জনসহ আরো ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুজ্জামান বাদী এই মামলাটি করেন।
এই ঘটনায় মনিরুল ইসলাম (২৮) ও আমিনুল ইসলাম রবিন (২৫) নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় উপজেলা পরিষদে মাসিক সমন্বয় সভার দিন ধার্য ছিল। সেখানে স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। যেহেতু সাংসদের সাথে মেয়র শাহনেওয়াজ আলীর দ্বন্দের কারণে সভায় বিশৃঙ্খলা হতে পারে আশঙ্কায় উপজেলা পরিষদের গেটে এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।
উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক ও পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেলে তার সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিলে মেয়র সমর্থকরা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুজ্জামান (৩১) উপপরিদর্শক তারেকুর রহমান (৩০) এএসআই জাহাঙ্গীর আলম (৩৬) এএসআই আশিকুর রহমান (২৭) ও কনস্টেবল আবদুল বাতেন (৩২) আহত হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
এদিকে পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী বলেন, স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের সাথে তার রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে। এ কারণে তিনি প্রায় আট মাস থেকে মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকেন না। গত বৃহষ্পতিবার অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় সাংসদ অনুপস্থিত থাকলেও পুলিশ সাংসদের মদদে তার কর্মি-সমর্থকদের মারধরসহ গুলি ছুঁেড় আহত করে। একপর্যায়ে পুলিশের কিছু সদস্য তাকে এলোপাথাড়ি কিলঘুষিসহ বন্দুকের বাটদিয়ে বেধড়ক পেটায়। পুলিশের এমন আচরণে তার কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদ জানালে পুলিশ তাদের ওপর গুলি-রাবার বুলেট ছোঁড়ে এবং লাঠিচার্জ করে।
পুলিশের ছোঁড়া রাবার বুলেটে আহত হয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন গুরুদাসপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি তাহের সোনার (৩৫) ও যুবলীগ নেতা তারেক মোল্লা (২৫) জীবন মোল্লা (২৬) শুভ (২২) ও শাওন মোল্লা (২৪)।
মেয়র আরো বলেন, গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস সাংসদ আবদুল কুদ্দুসের প্ররোচণায় তার অনুগত নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। তার ধারাবাহিকতায় তার রাজনৈতিক ইমেজ নিশ্চিহ্ন করতেই প্রায় ৩শ কর্মী-সমর্থকদের জড়িয়ে মামলা করেছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে মেয়র মহোদয় (শাহনেওয়াজ আলী) হয়তো পুলিশের মারধরের শিকার হতে পারেন, এটা অনাকাঙ্খিত। তবে কোন পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয় নি।
জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সমন্বয় সভায় কেবল মনোনিত ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু মেয়র মহোদয় রাজনৈতিক অপচর্চা করতে মোটরসাইকেলের বহরসহ উপজেলা চত্ত্বরে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। এটা আইনসিদ্ধ নয়। তবে পুলিশের মারধর থেকে মেয়রকে রক্ষায় তিনি ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সচেষ্ট ছিলেন। ইউএনও আরো বলেন, মাননীয় সাংসদ ও মেয়র মহোদয়ের রাজনৈতিক রেশারেশির কারণে উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আবদুল কুদ্দুস মুঠোফোনে বলেন, তার প্রতি দলের কিছু নেতা ভুল বুঝে রয়েছেন। বিশেষ কারণে সমন্বয় সভায় যোগ দিতে পারেন নি। তার বিরুদ্ধে আনা মেয়র শাহনেওয়াজের অভিযোগ সত্য নয়। কারণ তিনিও দলের একটি অংশ।