গুরুদাসপুরে যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার ২১ আদালতে সন্ত্রাসীর জামিন না মঞ্জুর, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২০, ৫:০৭ অপরাহ্ণ

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:


বহুল আলোচিত নাটোরের গুরুদাসপুরে যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট মামলার অন্যতম আসামী সন্ত্রাসী রেজাউল করিমের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এ খবর শুনে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া, বিন্যাবাড়ী, সরদারপাড়া ও জুমাইনগর এলাকার লোকজন খুশিতে ৫ মণ মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজাউল গরিব অসহায় মানুষদের কাছে থেকে বয়স্ক ভাতা ও চালের কার্ড করে দেয়ার নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্ত কোনো কার্ড করে দেয়নি। সর্বশেষ গত ২৬ মে দুপুরে স্থানীয় যুবলীগ নেতা বজলু সরদারের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করায় ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মাস্টারের বেশকিছু সমর্থকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়। সেই মামলার অন্যতম আসামী রেজাউল করিম দীর্ঘদিন পলাতক থাকার এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন নিতে যায়। এসময় আদালতের বিচারপতি তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই খবর শুনে আনন্দিত ও উল্লসিত হয়ে ৫ মণ মিষ্টি বিতরণ করেছেন এলাকাবাসী। সন্ত্রাসী রেজাউলকে জেলে দেয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা যায়, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া-বিন্যাবাড়ী বাজারে হতদরিদ্রদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে বজলু সরদারের সাথে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মাস্টারের কথা কাটাকাটি হয়। এরপরই চেয়ারম্যান গ্রুপের লোকজন বজলুর ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় গুলিবর্ষণ ছাড়াও ৩টি বাড়ি ভাংচুর এবং নগদ সাড়ে ৮ লাখ টাকা লুটপাটের অভিযোগ ওঠে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে। হামলার সময় প্রাণশঙ্কায় বাইরে অবস্থান করেন বজলু। পরে ওইদিনই তার পিতা ইসমাইল সরদার গুরুদাসপুর থানায় বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন গ্রুপের ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার এসআই মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, মামলার প্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত ২১জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার অন্যতম আসামী রেজাউল পলাতক ছিল। বৃহস্পতিবার তার জামিন না মঞ্জুর করে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মাননীয় বিচারপতি কারাগারে প্রেরণ করায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণের খবর শুনেছি। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।