গুরুদাসপুরে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির পর হত্যা চেষ্টা

আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুরে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) যৌন হয়রানির পর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দুপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার কাছিকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুদাসপুর থানা, এজাহারের নথি ও ওই ছাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবেশী খালেকের সঙ্গে তার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই শনিবার দুপুরে মামলায় অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও বাঁশের তৈরি হলঙ্গা নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। প্রথমেই তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে প্রতিপক্ষ আবদুল খালেক মারধর করে শ্লীলতাহানি করে। একপর্যায়ে তারহাতে বাঁশ দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় ছাত্রীর মা আন্জুয়ারা বেগম (৩২) মেয়েকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। গুরতর আহতাবস্থায় ছাত্রীটিকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, ছাত্রীটির শরীর জুড়ে জখম ও আঘাতের চিহ্নসহ ডান কাঁধের বোন হাড় ভেঙে গেছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে মুমূর্ষাবস্থায় আহত ছাত্রীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত ছাত্রী উপজেলার কাছিকাটা স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণির ছাত্রী।
ওই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা মহিউদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল শনিবার আবদুল খালেক (২৮), ফইম উদ্দিন, সালেহা বেগম, রেসমা খাতুন ও রুপালী খাতুনসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ ঘটনায় কাওকে গ্রেফতার করা যায় নি।
ছাত্রীর বাবা মহিউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, খালেক এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের পক্ষ অবলম্বন করে থাকেন। বাড়িতে ঢুকে তার মেয়ে ও স্ত্রীকে নির্যাতন করলেও ভয়ে তিনি প্রতিবাদ করার সাহস পর্যন্ত পারেন নি। মারধরের সময় তার মেয়ের গলায় থাকা একটি সোনার চেইন ও ঘরে রক্ষিত এক লাখ টাকাও তারা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুব্রত কুমার দাস বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।