গুরুদাসপুরে স্কুলছাত্রী উত্ত্যক্ত মামলা তুলে নিতে হুমকি, নিরাপত্তার অভাবে তিন ছাত্রী বাড়ি ছাড়া!

আপডেট: জুন ১৭, ২০১৭, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরে উত্ত্যক্তের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে উত্যত্তকারীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া তিন ছাত্রী প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি ছাড়া। এ ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
উত্ত্যক্তের শিকার পরিবারটির অভিযোগ, শুধু হুমকিতে থেমে নেই। উত্ত্যক্তের ঘটনায় দায়ের করা দুইটি মামলা তুলে নিতে তাদের পরিবারের অন্ততপক্ষে ১৪ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে পাল্টা একটি মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। উত্ত্যকারীদের স্বজন এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে আদালতে ওই চাঁদাবাজির মামলাটি (৭ জুন) দায়ের করেন। এই মামলায় মেয়ের বাবা, চার চাচা ও দাদাসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অথচ উত্ত্যক্তকারীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও স্কুল ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারে নি। পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে তাদের পরিবারের এমন অবস্থা হতো না বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। উপরন্তু চাঁদাবাজির মামলায় পরিবারটির সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারটি।
উত্ত্যক্তের শিকার হওয়া ছাত্রীর দাদা (৭২) অভিযোগ করেন, উত্ত্যক্তের ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে উত্ত্যক্তকারীর স্বজনদের হাতে ছাত্রীর বাবা (৩৬) প্রথম মারধরের শিকার হন। সেটা ২৫ মে’র ঘটনা। ওই ঘটনায় ২৬ মে গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়। পুলিশ দুইদিন পর (২৮ মে) অভিযোগটি রেকর্ড করে। উত্ত্যক্তের শিকার ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
ওই মামলা দায়ের হওয়ার পর উত্ত্যক্তকারীর স্বজনরা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে ২৯ মে ছাত্রীর বাবা (৩৬), দুই চাচাকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা ও দাদাকে (৮০) মারধর করে। ওই ঘটনায় ১ জুন ছাত্রীর দাদা বাদী হয়ে আদালতে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উত্ত্যক্তকারী নুরুল হক, তার বাবা আবদুল হক, স্বজন আয়নাল হক, জয়নাল আবেদীন, আশরাফ হোসেন, মিজানুর রহমান, মিল্টন, বাবুসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ছাত্রীর দাদা অভিযোগ করেন, উত্ত্যক্তকারীরা ছাত্রীর বাবার বাম পাশের বুকে লোহার রড ঢুকিয়ে দিয়েছে। দুই চাচাকে মাথা ও শরীর জুড়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। টানা ১০ দিন তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। গত ১২ জুন তারা বাড়ি ফিরেছে।
কিন্তু উত্ত্যক্তকারীদের আস্ফালন বন্ধ হয় নি। তারা মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যথায় পরিণতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। এখন উত্ত্যক্তকারীদের নজরদারি আর তাদের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। পুলিশের অসহযোগিতায় আর উত্ত্যক্তকারীদের হুমকির মুখে বসবাস করছি। নিরাপত্তার অভাবে পরিবারের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। পরিবারটি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উত্ত্যক্তকারীদের স্বজন জয়নাল আবেদীন বৃহস্পতিবার বিকালে মুঠোফোনে দাবি করেন, পরিস্থিতির কারণে তাদের প্রতিপক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ সত্য নয়। উপরন্তু তারাই পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোশের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. তারেকুল ইসলাম সরকার জানান, তিনটি মামলার তদন্ত চলছে। এ কারণে আসামিদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তবে উত্ত্যক্তের শিকার পরিবারটিকে ভয়ভীতি দেখানোর খবর পুলিশের জানা নেই। এ সংক্রান্ত ঘটটনায় থানায় অভিযোগও করে নি কেউ। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে।