গুরুদাসপুরে স্কুলছাত্রী উত্ত্যক্তের শিকার

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


নাটোরের গুরুদাসপুরে বিয়ের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) প্রকাশ্যে সড়কের ওপর চুলধরে টেঁনে-হেঁচড়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বোরবার বেলা ২টার দিকে পৌরসভার নাড়িবাড়ি এলাকায় ওই ঘটনা ঘটেছে।
উত্ত্যক্তকারী বখাটে যুবকের নাম আদম (১৭)। সে দক্ষিণনাড়িবাড়ি গ্রামের আফতার মোল্লার ছেলে। উত্ত্যক্তের ঘটনায় ওই ছাত্রীর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান এ অভিযোগ দেন।
লিখিত অভিযোগ ও ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বখাটে আদম দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ওই প্রস্তাবে রাজী ছিল না ছাত্রীটি। গতকাল রোববার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষে সহপাঠীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল ওই ছাত্রী। পথিমধ্যে ছাত্রীটিকে আবারও বিয়ের প্রস্তাব দেয় বখাটে যুবক আদম। কিন্তু তাতে সায় না পেয়ে ছাত্রীটিকে চুল ধরে টেনে-হেঁচড়ে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ছাত্রীটি সড়কের ওপর পড়ে গেলে আদম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সহপাঠীদের সহায়তায় বাড়ি ফিরে ছাত্রীটি।
ছাত্রীর বাবা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই বখাটে আদম তার মেয়ের পিছু লেগেছে। বিষয়টি তার বাবাকে ইতোপূর্বেও মৌখিকভাবে জানানো হয়। প্রতিকার না হওয়ায় গতকাল রোববার তার মেয়ে উত্ত্যক্তের শিকার হয়। এদিকে তার মেয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার পর বাড়িতে ফিরে ভয়ে কাঁপছিল। কারো সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলছে না। বিষয়টি তার বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হলে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার মেয়েসহ পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বখাটে আদম অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই ছাত্রীর বয়সের সঙ্গে আদমের বয়সের পার্থক্য থাকলেও ওই ছাত্রীকে পেতে বেপরোয়া ছিল আদম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন সন্ধ্যায় জানান, অভিযোগটি আমলে নিয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওই ছাত্রীর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সহকারী প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, ছাত্রীটি যাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসে পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একজন আয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সুবিধা বহাল থাকবে। এর মধ্যে ছাত্রী উত্ত্যক্তকারী গ্রেফতার না হলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।
অভিযুক্ত আদম আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি। তবে তার বাবা আফতান মোল্লা জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। অপরাধ করলে সে শাস্তি পাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ