গুরুদাসপুরে হাট কমিটির পদ নিয়ে দ্বন্দ্বে ছয়জনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি


হাট কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্বে ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহতদের গুরুদাসপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজন হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী হাটে ওই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, মো. শহিদ প্রাং (৬০) মোতালেব (৩২), ইয়াদ আলী (৪৫), আতাহার (৫০) ও আবদুল আলিম (২৫)। আহতদের বাড়ি উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবাগারী গ্রামে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, ছয়জনের মধ্যে মো. শহিদ, ইয়াদ আলী ও আতাহারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে আতাহারের ডান হাতের কবজি, কান ও মাথায় গুরুত্বর আঘাত রয়েছে। শহিদ ও ইয়াদ আলীর মাথা, হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুত্বর আঘাত রয়েছে। এ কারণে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আ’লীগের দুই নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ও রবিউল করিম বাবু বিভক্ত হন। তখন থেকেই দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। অনিয়ম-দুর্নীতির দায়ে সম্প্রতি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল গ্রুপের আবদুল হান্নানকে সাবগারী হাটের সভাপতি পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। এ ঘটনায় আবদুল হান্নানের সঙ্গে বাবু গ্রুপের ইয়াদ আলীসহ বেশ কয়েকজনের বাগবিত-া হয়। পরে থানায় বিষয়টি আপোষ মিমাংসা হয়। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার সকালে দূর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওমর আলীর নেতৃত্বে সাবগাড়ী হাটের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে হান্নানকে না রাখায় ক্ষিপ্ত হয়ে তখনই হান্নানসহ তার অনুসারী সানোয়ার, আবদুস সালাম, ওসমান, আবদুল মানান, ওয়াসকুরুনী, আবদুর রশিদসহ ২০-২৫ জনের একটি সংবদ্ধ দল দেশিয় অস্ত্র নিয়ে বাবু গ্রুপের লোকজনের ওপর হমলা চালায়। এতে বাবু গ্রুপের ছয়জন গুরুত্বর আহত হন। আহত আতাহারের ছেলে হাসান আলী বলেন, তার বাবা সাবগাড়ী হাটে ধান ভাঙাতে এসেছিল। সে কোন দল বোঝে না। ধান মাথায় নিয়ে হাটে পোঁছালে হান্নান ও তার লোকজন তার বাবাকে প্রকশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে।
অধ্যক্ষ মো. ওমর আলী সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েক দফা পুলিশ টহল দিয়েছে। উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল করিম বাবু বলেন, চেয়ারম্যান মোজাম্মেলের সমর্থক আবদুল হান্নান প্রায় ৪ বছর ধরে সাবগাড়ী হাট কমিটির সভাপতি ছিলেন। কিন্তু উনি সভাপতি থাকাকালীন সময়ে কোন সভা ছাড়াই স্বেচ্ছাচারিতা করে হাটের বিভিন্ন অনিয়ম দুনীতি করেছেন। এতে এলাকাবাসী তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় গতকাল সাবগাড়ী হাটের অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে মোজাম্মেল তার বিএনপি সমর্থিতদের দিয়ে তার লোকজনের ওপরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদ পরিষদের চেয়ারম্যান ( ইউপি) মো. মোজাম্মেল হক দাবি করে বলেন, হাট কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে এলাকার কিছু মানুষ দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে। তবে বাবুর ইন্ধনেই আজকে (গতকাল) গ্রামের নিরীহ মানুষদের প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারীরা। তারা আমার লোক নয়।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কুমার দাস বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।