গুরুদাসপুর কলেজে বর্তমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি



নাটোরের গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাবেক অধ্যক্ষের উচ্চআদালতে দায়ের করা রিট আবেদন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি কলেজ থেকে বের হয়ে উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এসে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় বক্তব্য দেন শিক্ষক মো. আবু ইউনুস, আবুল কালাম আজাদ, মো. আবদুর রশিদ ও রেজাউল করিম প্রমুখ।
বক্তারা জানান, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল কলেজটি সরকারিকরণের পর ১১ জুলাই আলী আশরাফ অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরে সাবেক অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম অধ্যক্ষ আলী আশরাফের কার্যক্রম স্থাগিতাদেশ চেয়ে উচ্চআদালতে রিটপিটিশন করেন। ফলে কলেজটির যাবতীয় অফিশিয়াল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের বেতন ভাতার টাকা উত্তোলন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা সাবেক অধ্যক্ষের রিটপিটিশন প্রত্যাহারের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ওই রিটপিটিশন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত, অনশন ধর্মঘটসহ অনর্দিষ্টকালের ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু কলেজটি সরকারি করণের পর আলী আশরাফ অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তিনি মনে করেন, এতে তার সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। উচ্চ আদালত তার দায়েরকৃত রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অধ্যক্ষের কার্যক্রম চারমাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
তবে অধ্যক্ষ আলী আশরাফ বলন, এ বিষয়টি নিয়ে রিটপিটিশন দায়ের করা ঠিক হয় নি। এতে কলেজটি সরকারি করণে কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাছাড়া তিনি প্রতিপক্ষের রিটিপিটিশনের কোনো কাগজপত্র হাতে পান নি।
এই বছরের ২৮ এপ্রিলে জোহা কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়। ২ জুন কলেজটি সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। পরে ৩০ জুন শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে ওএসডিও’তে (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) থাকা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আলী আশরাফকে ওই কলেজে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে সংযুক্ত করে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারি সচিব আবু কায়সার খান স্বাক্ষরিত (৩০জুন, ২ ও ৯ আগষ্ট) তিনটি পৃথকপত্রে দেখা গেছে, জোহা কলেজের মতো সারাদেশে ১০টি কলেজে এরকমভাবে নতুন অধ্যক্ষ পদায়ন করা হয়েছে।