গুলশান হামলার ২ মাথা এখনও পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে এনআইএ-র সাহায্য চাইল ঢাকা

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
ঢাকার গুলশানের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার যাবতীয় রসদ ও সরঞ্জামের ব্যবস্থাকারী জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের (নিউ) দুই জঙ্গি এখনও পশ্চিমবঙ্গেই গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে নয়াদিল্লিকে জানাল বাংলাদেশ। ওই দুই জঙ্গিকে ধরার জন্য ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) সাহায্যও চেয়েছে বাংলাদেশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিইউ)। গুলশান হামলার সঙ্গে যুক্ত ওই দুই জঙ্গির একজন হল মামুনূর রশিদ রিপন ওরফে জাহাঙ্গীর এবং অপরজন শরিফুল ইসলাম খালেদ। খালেদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র। গত এপ্রিল মাসের ২৫ তারিখ থেকে বাংলাদেশের এই দুই জঙ্গি এদেশে রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন সেখানকার গোয়েন্দারা। এমনকী তার মাঝে মধ্য কলকাতার একটি হোটেলেও দু’দিন কাটিয়ে গিয়েছে তারা। প্রথমদিকে এরাজ্যের মালদহ, বীরভূম, কলকাতা ও হাওড়ার ডেরায় কিছুদিন কাটিয়ে তারা দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি ডেরা পালটে ফের পশ্চিমবঙ্গে ঢুকেছে বলে গোয়েন্দারা জেনেছেন।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখ বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদারমনস্ক অধ্যাপক রেজাউল করিমের খুনের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই দুই জঙ্গিকে এপারে আশ্রয় দিয়েছিল বর্ধমান থেকে ধৃত আইএস জঙ্গি মহম্মদ মসিরউদ্দিন ওরফে মুসা। গুলশান হামলার জন্য অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহে রিপন ও খালেদের সঙ্গেই মালদহের কালিয়াচক সীমান্তের এক গ্রামে বৈঠক করেছিল মুসা। পরে মধ্য কলকাতার ওই হোটেলে তাদের থাকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল সে। বাংলাদেশ থেকে মেলা তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ’র গোয়েন্দারা বলছেন, ধরা পড়ার পর জেরায় আইএস সমর্থক দুই বাংলাদেশি জঙ্গির উল্লেখ করেছিল মুসা। তাদের সঙ্গে বৈঠক, গুলশান হামলার ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া এবং অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহের বিষয়েও জানিয়েছিল সে। দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজনকে সে সাংগঠনিক নাম ‘সুলেমান’ এবং অপরজনকে ‘বাংলার বাঘ’ নামে চিনত, এমনটাও জানিয়েছিল মুসা। জেরায় মেলা তথ্য এবং নানা প্রমাণের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা এখন বলছেন, মুসা বর্ণিত সেই সুলেমান হল আসলে শরিফুল ইসলাম খালেদ এরফে জাহাঙ্গীর এবং বাংলার বাঘ আর কেউ নয়, সে মামুনূর রশিদ রিপন।
সিটিটিইউ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই জঙ্গির সঙ্গেই এই মুহূর্তে তামিম চৌধুরির স্থলাভিষিক্ত নিউ জেএমবি’র ‘আমির’ তথা খাগড়াগড়কা-ের অন্যতম অভিযুক্ত সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরুল্লা ওরফে ভাগ্নে সোহেল এবং জুনায়েদ হোসেন খান ওরফে বিগ ব্রাদারও ভারতের কোথাও গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে। এই দু’জনের বিষয়েও খোঁজখবর করার জন্য এনআইএ’কে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বানাতে পারদর্শী সোহেল মাফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরুল্লা খাগড়াগড় পর্বে গ্রেনেড বানাতে শিখিয়েছিল সহযোগী জঙ্গি-জেহাদিদের। ওই একই ধরনের গ্রেনেড গুলশান হামলার সময়েও হাতকাটা নাসিরুল্লা সরবরাহ করেছিল বলে ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে। মুসাকে জেরা করে নাসিরুল্লার বিষয়েও জানা গিয়েছিল।
এনআইএ’র গোয়েন্দারা বলছেন, গুলশান হামলায় অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক জোগাড় করার ভার বর্তেছিল রিপন ও খালেদের উপর। এ কাজে তারা এপারের সহযোগী মুসার সাহায্য নিয়েছিল। নেপাল থেকে একে-২২ রাইফেল এবং মুঙ্গের থেকে নাইন এমএম পিস্তল বাংলাদেশি সতীর্থদের জন্য জোগাড় করে দিয়েছিল মুসা। এমনকী বিহার থেকে বিস্ফোরক পাওয়ার জেল এবং ডিটোনেটরও জোগাড় করে তা বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল রিপন ও খালেদ। সিটিটিইউ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খুনের ঘটনায় জড়িত খালেদের খোঁজে ৩০ লক্ষ বাংলাদেশি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অধ্যাপক খুনের পরের দিনই চোরাপথে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পার করে বৈষ্ণবনগর হয়ে মালদহে আসে রিপন ও খালেদ। মালদহ স্টেশনে তাদের সঙ্গে দেখা করে মুসা। গোয়েন্দারা বলছেন, শুধু রিপন আর খালেদই নয়, গুলশান কা-ে জড়িত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুরুল ইসলাম মারজান, তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বসিরুল্লা ওরফে রাহুল ওরফে চকোলেট এবং নিউ জেএমবি’র অস্ত্র বিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে টাইগার ওরফে শান্ত ওরফে আদিল ওরফে রাজীব গান্ধীও ভারতে গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকার গোয়েন্দারা।- বর্তমান

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ