গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপি নেতা মাইনুলের মৃত্যু

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি খন্দকার মাইনুল ইসলামের (৫৯) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মাইনুল ইসলাম পেশায় একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
নগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকার নিজ বাসা থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আরিফুল হক জানান, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই খন্দকার মাইনুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। তার দুই কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবে তার বাম কানে ছিদ্র রয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
রাজশাহী ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শরীফুল ইসলাম জানান, ফায়ার স্টেশনের পাশেই খন্দকার মাইনুল ইসলামের বাসা। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এমন খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার বাসায় ছুটে যান। এরপর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি জানান, খন্দকার মাইনুল ইসলামের বাসার সামনে প্রাচীরের ভেতরেই বসার জন্য একটি ঘুন্টিঘর আছে। ওই ঘরের মেঝেতেই তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তার কানের পাশে ছিদ্র ছিল এবং সেখান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
খন্দকার মাইনুল ইসলামের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, ঠিকাদারি ব্যবসার কারণে তার প্রচুর টাকা ঋণ হয়ে গিয়েছিল। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যায়নি।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী নিশ্চিত গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। তবে কীভাবে মারা গেছেন তা বলা যাচ্ছে না। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও সিআইডির কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পরীক্ষা করা হবে। লাশের ময়নাতদন্তও হয়েছে। চিকিৎসক দুই একদিনের মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিবে, তখন বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে।
নগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে মারা গেলে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া বলা যাচ্ছে না।
মহানগর বিএনপি : তার মৃত্যুতে মহানগর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, সহসভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকারসহ নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের আত্মার মাগফেরতা কামনা করে শোকপ্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
জেলা বিএনপি : তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কামরুল মনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু ও দফতর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনসহ নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোকপ্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এদিকে রাজশাহী বিভাগীয়
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগীয়) শাহীন শওকত, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাইদ চাদ, দেবাশিষ রায় মধু। এছাড়া নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।