গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে ভোগান্তি

আপডেট: জুলাই ২৫, ২০১৭, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গতকাল দিনভর ছিলো গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। দুর্ভোগে পড়তে হয় নগর বাসীকে। ছবিটি নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে তোলা-সোনার দেশ

প্রকৃতির পালা বদল, চলছে বর্ষাকাল। আষাঢ়ের শুরুতে মুষলধারে বৃষ্টি ঝড়ছে। কয়েকদিন থেকে রাজশাহী আকাশে কালো মেঘ আর মাঝে মাঝে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সূর্যের দেখা নেই। এতে থমকে গেছে পুরো নগরী। বাড়ির বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ছাতা নিয়ে কেউ কেউ বের হচ্ছে ব্যস্ততা নিয়ে। এর মধ্যে বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছেন অফিসগামী, স্কুলের শিক্ষার্থী, দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে রিকশা ও অটোচালকদের জীবনের তাগিদে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় বের হতে দেখা যায়। বর্ষাকালের আষাঢ়ের পর শ্রাবণের শুরুতে সারাদিন বৃষ্টি ঝরেছে।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে আকাশে কালো মেঘের রাশি। এর কিছুক্ষণ পরে গুড়ি গুড়ি ও মুষল ধারে বৃষ্টি ঝরেছে। এতে পথচারীদের নানান কাজে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়। থেমে থেমে কখনো মাঝারি, কখনো বা হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি করে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশেপাশের গ্রামগঞ্জেও অবিরাম ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টির পানিতে গ্রামের রাস্তা-ঘাট কর্দমাক্ত হয়ে উঠছে। পানি জমতে শুরু করেছে ফসলের মাঠে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৮ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনি¤্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ ভাগ ও সন্ধ্যা ৬টায় ৯৮ ভাগ ছিল। তিনি বলেন, আরো দুইদিন বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
এদিকে এ বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন অলিতে গলিতেও পানি জমতে থাকে। বৃষ্টিপাতে তাৎক্ষণিক মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হলেও শ্রাবণের ধারাকে সানন্দে গ্রহণ করছে অনেকেই।
এরই মধ্যে বর্ষার দূত কদম ফুল ফুটতে শুরু করেছে। বর্ষার রূপ ঐশ্বর্যে মুগ্ধ অনেক কবিই বাংলা সাহিত্যকে ঋদ্ধ করেছেন। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্বতন্ত্র। বর্ষা কাব্যময়, প্রেমময়। বর্ষার প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়।
শ্রাবণের আগে আষাঢ়ের শোনা যায় রিমঝিম বৃষ্টির ছন্দ। নবধারা জলে ভিজে শীতল হওয়ার আহ্বান এখন প্রকৃতিতে। সব রুক্ষতাকে বিদায় জানিয়ে নরম কোমল হয়ে উঠবে বাংলার মাটি। শত ঘটনার ভিড়েও কোথায় যেন মেলে এক চিলতে বিশুদ্ধ সুখানুভুতি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ