গুড়ে ভেজাল অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে

আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০১৯, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

সম্প্রতি রাজশাহীরর আড়ানী পৌরবাজারে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত ভেজাল আখের গুড় বিক্রির সময় এক হাজার মণ গুড় জব্দ করা হয়। এছাড়া ৫টি গুড়ের কারখানা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত আজিজ আমান ৪ জন গুড় প্রস্তুতকারীকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জব্দকৃত গুড় আড়ানী বাজার সংলগ্ন বড়াল নদে ফেলে ধ্বংস করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, কতিপয় অসাধু গুড় প্রস্তুতকারী অতিলাভের আশায় নিম্নমানের চিনি, মোলাসেস (সুগার মিলের গাদ) এর সঙ্গে নানা রকম কেমিকেল, চুন, হাইড্রোজ, ফিটকিরি, ডালডা, আটা, আলু এবং বেলুন পাট, গাছের ছাল ব্যবহার করে ভেজাল গুড় তৈরি করে তা বাজারজাত করে। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
র‌্যাব এর অভিযানে আটক ভেজাল গুড়ের এটিই পরিমাণে বিপুল। কিন্তু দিনের পর দিন ভেজাল গুড় প্রস্তুত হয় কী ভাবে? কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে স্বাস্থ্য হানিকর গুড় গুড় উৎপাদন ও বাজারজাত হয়। তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
গুড় আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে আছে। গুড় দিয়ে মিষ্টান্নের প্রচলন শহর ও গ্রামে সমানভাবে। অথচ এই গুড়ও মারাত্মক ভেজাল মিশ্রণে তৈরি হয়। আমাদের দেশে ভেজাল নতুন কিছু নয়। দূর অতীত থেকেই এই ভেজালের প্রবণতা চলে আসছে কিন্তু এ প্রবণতা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত এমন কোনো খাদ্য পণ্য নেই যাতে ভেজাল দেয়া হয় না। ভেজাল খাদ্যের নিয়ন্ত্রণহীন ছড়াছড়ি নিরব ঘাতকের মত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের একটি সূত্র মতে, দেশের খাদ্য তালিকার ১৫০ থেকে ২০০ প্রকার আইটেম ভেজালযুক্ত বা নিম্নমানের। খাদ্যেপণ্যে হরহামেশাই ব্যবহার হচ্ছে ফরমালিন, কৃত্রিম রং, কার্বাইড, ইথ্রেন এবং ক্ষতিকর কীটনাশক ডিটিটি। এসবের বিষক্রিয়ার ফলে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন, তেমনি তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। এছাড়া নারীদের বন্ধাত্বের কারণ হতে পারে। ভেজালযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস হতে পারে। আবার লিভার, কিডনি ও হার্টের মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে।
বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে অসাধু ব্যবসায়ীরা এর মধ্য থেকে অপ-বিজ্ঞানকে খুঁজে বের করছে এবং এই অপ-বিজ্ঞানকে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর কাজে ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, তারা নকল খাদ্য উপাদানও করছে। এগুলোতে প্রতারণাতো রয়েছেই, তার চেয়ে বেশি রয়েছে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি।
ভেজাল পণ্য প্রস্তুতকারক এবং খাদ্যে ভেজাল প্রদানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। ভেজাল পণ্য প্রস্তুত ও পণ্যে ভেজাল মেশানোর জন্য আইনি শাস্তির বিষয়টি কেবলমাত্র ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমেই পরিলক্ষিত হয়। ভেজাল-অপরাধীদের সংক্ষিপ্ত জেল-জরিমানা করেই তাদের ক্ষান্ত করা যাচ্ছে না। এ জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। যাতে করে তারা ভেজালে প্রবৃত্ত হতে ভয় করে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ