গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ নির্মম নির্যাতনে রামেক হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৭, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গৃহপরিচাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণ করতে না পারায় ওই গৃহপরিচারিকাকে (২৭) নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতিত গৃহপরিচারিকাকে পুলিশ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, চিকিৎসাধীন গৃহপরিচারিকা নগরীর কুমারপাড়া এলাকার শাজাহান আলী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে কাজ করেন। তিনি তিন বছর থেকে ওই বাড়িতে কাজ করছেন। ওই গৃহপরিচারিকা পাবনার ঈশ^রদী উপজেলার আমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
আহত গৃহপরিচারিকা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, গত মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে বাড়ির মালিক শাজাহানের ছেলে শাকিল আমাকে খারাপ প্রস্তাব দেন। আমি প্রস্তাবে রাজি না হলে কাঁচের ভাঙা মদের বোতল দিয়ে শরীরের পেছন দিকে ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে শাকিল। এসময় আমার শরীরের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে যায়।
এসময় আমার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে। এরপর আমাকে বাড়ির বাইরে বের করে দেয়। এরপর প্রতিবেশি এক নারী আমাকে তার বাড়িতে আশ্রয় দেন। মঙ্গলবার সকালে ওই নারী পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে বুধবার বিকেলে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারীর বেডের পাশে তার রক্তমাখা জামা পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত নারী জানান, তিন বছর ধরে তিনি শাহাজাহান আলীর বাড়িতে কাজ করছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই শাজাহানের ছেলে শাকিল তাকে খারাপ প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক জানান, নির্যাতিত নারীর উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো না।
বিষয়টির ব্যাপারে জানার জন্য গতকাল বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে যোগাযোগ করা হয় বোয়ালিয়া মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। সারাদিন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সবেমাত্র বাড়ি ফিরেছি। এ ব্যাপারে তিনি ওসি’র সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
ওসি শাহাদত হোসেন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারবো না। ঘণ্টাখানেক পরে ফোন দেন। বিস্তারিত বলতে পারবো তখন। রাত পৌনে ১০টার দিকে ফোন দেয়া হলে ওসি বলেন, মেয়েটি খারাপ চরিত্রের। তবে কেউ নির্যাতন করলে সেটা সমর্থনযোগ্য না। এরপরেও আমি মামলা নিতে বলেছি। নির্যাতিত মেয়েটির পক্ষ থেকে মামলা দিলে তা গ্রহণ করা হবে।
তবে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে শাকিল এবং তার পিতা শাজাহান আলীসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে নেই। মামলা এবং গ্রেফতার আতঙ্কে তার গাঢাকা দিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ