গৃহবধূ সুমি হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি কারাগারে, স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালি শাহাপুর এলাকায় গৃহবধূ নাসরিন খাতুন ওরফে সুমি (২৪) ‘হত্যার’ পর তার স্বামী মিঠুন আলী ওরফে ফিডার (২৭) আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল রোববার সকালে জেলার চারঘাট উপজেলার শলুয়া রেলগেট এলাকায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
ফিডার নগরীর মতিহার থানার শাহাপুর এলাকার আবদুল মজিদের ছেলে। শনিবার বিকেলে ফিডার তার স্ত্রী সুমিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই রাতেই সুমির বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সুমি নগরীর উপকণ্ঠ হরিয়ান সুগারমিল এলাকার আসাদুজ্জামানের মেয়ে। প্রায় সাড়ে চারমাস আগে ফিডারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
সুমি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিহার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা জানিয়েছেন, মামলায় ফিডার ছাড়াও তার বাবা আবদুল মজিদ (৫২), মা আন্নাজান মালেকা (৪০) ও ছোট ভাই চান্দু মিয়াকে (২৪) আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আসামিদের মধ্যে ফিডারের মা-বাবাকে শনিবারই গ্রেফতার করা হয়। এরপর গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে তোলা হয়। এ সময় আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। ফিডার ও তার ভাই চান্দুকে পুলিশ খুঁজছিল। এরই মধ্যে ঘটনার পরদিনই আত্মহত্যা করলেন ফিডার। রেলওয়ে পুলিশের কাছ থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, যৌতুক নিয়ে বিরোধের জের ধরে সুমিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু আসামিপক্ষের দাবি, সুমি জানালার সঙ্গে গলায় মাফলার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সুমির মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) সহকারী অধ্যাপক ডা. এনামুল হক। তিনি জানান, ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে সুমির গলায় চিহ্ন পাওয়া যেত। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি; বরং মরদেহের ডান কানের কাছে জখম পাওয়া গেছে।
শনিবার রাতে রামেক হাসপাতালে সুমির লাশ রেখে পালিয়ে যান তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে গতকাল  দুপুরে রামেকের মর্গে সুমির মরদেহের এ ময়নাতদন্ত করা হয়। আগামি সপ্তাহে ময়ানতদন্তের প্রতিবেদন পুলিশকে দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডা. এনামুল হক।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে চারঘাট থানার এসআই আখের আলী জানান, গতকাল সকাল ৯টার দিকে উপজেলার শলুয়া রেলগেট এলাকায় রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ফিডার ধূমপান করছিলেন। এ সময় পাবনার ঈশ্বরদী থেকে একটি কমিউটার ট্রেন রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনটি কাছে আসলে ফিডার তার সামনে ঝাঁপ দেন।
জানতে চাইলে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।