গৃহযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন‌্য নোবেল পুরস্কারের অর্থ দানের ঘোষণা সান্তোসের

আপডেট: অক্টোবর ১০, ২০১৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ

04. Colombian PM
সোনার দেশ ডেস্ক
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম‌্যানুয়েল সান্তোস তার নোবেল পুরস্কারের অর্থ দেশটির অর্ধশতকের গৃহযুদ্ধের শিকারদের সহায়তার জন‌্য দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। সান্তোস বলেন, “গেল রাতে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে এই ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার)  ক্ষতিগ্রস্তদের জন‌্য দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বিবিসি বলছে, চোকো অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বোজায়ায় ৫২ বছরের গৃহযুদ্ধে আক্রান্তদের জন‌্য আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সান্তোস এই ঘোষণা দেন। ২০১৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করেছেন সান্তোস। কলম্বিয়ার মাটিতে বামপন্থি ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করার কয়েকদিনের মধ্যেই ২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশটির ৫০.২৪ ভাগ ভোটার এই শান্তিচুক্তি প্রত‌্যাখ‌্যান করেন। কলম্বিয়ায় ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে ৫২ বছরের সরকারি বাহিনীর লড়াইয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নিহত ও ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ‌্যুত হয়েছেন।
এরআগে সান্তোস (৬৫) তার এ পুরস্কারকে উৎসর্গ করেন কলম্বিয়ার দীর্ঘ যুদ্ধে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের প্রতি। তিনি বলেন, শান্তি সন্নিকটে, শান্তি সম্ভব। পুরো জাতিকে নিয়ে তিনি সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব করে তুলবেন। পাঁচ দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে কলম্বিয়া সরকারের করা ‘ঐতিহাসিক’ শান্তিচুক্তি গণভোটে প্রত‌্যাখ‌্যাত হলেও শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস।
নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান পঞ্চম কাচি কুলমান গেল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের পুরস্কার ঘোষণা করে বলেন, ৫২ বছরের যে যুদ্ধ অন্ততপক্ষে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে, সেই যুদ্ধের অবসানে ‘দৃঢ় অবস্থানের জন‌্য’ প্রেসিডেন্ট সান্তোসকে দেয়া হচ্ছে এ পুরস্কার। শান্তি চুক্তির অপরপক্ষ বামপন্থি গেরিলা দল দ্য রেভল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) নেতা রডরিগো লনডনোকে (যিনি তিমোশেনকো নামে বেশি পরিচিত) এ পুরস্কারে অন্তর্ভুক্ত করেনি নোবেল কমিটি।
কিউবা আর নরওয়ের মধ‌্যস্থতায়, ভেনেজুয়েলা ও চিলির সহযোগিতায় চার বছর আলোচনার পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর ফার্ক নেতা তিমোশেনকো ও কলম্বিয়ার মধ্য-ডানপন্থি সরকারের প্রধান হুয়ান সান্তোস ওই চুক্তিতে সই করেন। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় ২ অক্টোবর কলম্বিয়ার জনগণ ঐতিহাসিক ওই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নোবেল কমিটি বলেছে, বিপক্ষে ভোট দেওয়ার মানে শান্তির বিরোধিতা করা নয়। যারা বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তারা অন‌্য কোনো চুক্তি চান।

এই শান্তি চুক্তির যারা বিরোধিতা করছেন, তাদের নেতৃত্বে আছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরিবে। তার ভাষায়, এই চুক্তি অনেক বেশি গেরিলাদের পক্ষে গেছে। শান্তি চুক্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ সংঘাতের দিনগুলোতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন‌্য বিশেষ ট্রাইব‌্যুনাল গঠন করা হবে। যারা অপরাধ স্বীকার করে নেবে, তাদের লঘুদ- হবে, জেল খাটতে হবে না।
২০১৮ ও ২০২২ সালে কলম্বিয়ার নির্বাচনে কংগ্রেসের দশটি আসনের নিশ্চয়তাও ফার্ককে দেওয়া হয়েছে চুক্তিতে। গণভোটে কলম্বিয়ার জনগণ ওই চুক্তিকে ‘না’ বলে দিলেও প্রেসিডেন্ট সান্তোস শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের কথা বলেছেন। ফার্কের সঙ্গে আলোচনার জন‌্য সরকারি প্রতিনিধিরা এরইমধে‌্য কিউবার রাজধানী হাভানায় ফিরে গেছেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে সান্তোসের হাতে তুলে দেয়া হবে নোবেল শান্তি পুরস্কার।- বিডিনিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ