গৃহিণীদের আগ্রহ ও কৌতুহলে পদ্মাসেতু

আপডেট: জুন ১৫, ২০২২, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রমত্তা পদ্মার উপর নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ সেতু নিয়ে আবেগতাড়িত হচ্ছেন গৃহিণীরাও। অনলাইন, পত্রিকা ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পদ্মার সেতুর প্রচারণা রাজশাহী নগরীর গৃহিণীদেরও দৃষ্টি কেড়েছে। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়ে তারও গুনছেন অপেক্ষার প্রহর। সোনার দেশ প্রতিবেদকের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করেছেন বেশ কয়েকজন গৃহিণী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর মা রিক্তা খাতুন জানান, আমি দীর্ঘ ৯ বছর খুলনায় ছিলাম। খুলনা যেতে স্পিডবোটে করে নদী পার হতে হতো। যা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয় ছিলো। খুলনা থেকে ঢাকার দূরত্ব অনেক বেশি যার কারণে ট্রেনে আসতে হলেও ১২ ঘণ্টা সময় লাগতো। বিপদ আপদ হলে ঢাকাতে ফেরি ছাড়া যাওয়ার কোনো বিকল্প পথও নেই।

ফেরির অপেক্ষায় থেকে অনেকের মৃত্যুর খবরও শুনেছি। পদ্মাসেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অনেক বেশি সুবিধা হবে। তাদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। ঢাকার সাথে যোগাযোগের দূরত্ব ও সময় কমে আসবে। যার ফলে সবাই অনেক স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবে। এই সেতু দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অনেক সহজ করবে।

অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর মা নাজমা রহমান জানান, পদ্মা সেতু দেশের বৃহৎ সেতু। প্রথম দিকে যেমন শোনা যাচ্ছিল অর্থ সংকটের জন্য মাঝপথেই থেমে যাবে কাজ। বিশ্ব ব্যাংকের ঋণ না পাওয়াসহ বিভিন্ন গুজব ছড়িয়েছিলো। এখন ভাবতেই অবাক লাগছে, নিজেদের অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করতে পেরেছি। এ মাসেই হচ্ছে সেতুর উদ্বোধন। এটি বাঙালির জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। অন্য কোনো দেশের সাহায্য ছাড়া এটা অবশ্যই সরকারের কৃতিত্ব ও মহৎ উদ্যোগ। দেশ অনেক এগিয়ে যাবে এই মেগা প্রোজেক্টের মাধ্যমে।

রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ইভা ইসলাম বলেন, বেশকিছু দিন আগে মাওয়া গিয়েছিলাম। কিন্তু পদ্মা সেতু দেখার সৌভাগ্য হয় নি। এটা তো স্বপ্নের সেতু। দেশবাসীর সেতু। সবাই অনেক খুশি। এতো খুশি যে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাঙালির বহু দিনের আশা পূরণ হচ্ছে। আমরা অনেক দূরে আছি।

কিন্তু মনে হচ্ছে সেতু আমাদের শহরেই হচ্ছে। পদ্মা সেতুর কারণে সেখানকার মানুষের অনেক বেশি সুবিধা হয়েছে। ফেরিতে পারাপার হওয়া অনেক কষ্টকর। কিন্তু পদ্মা সেতুর কারণে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত হবে। সহজ হবে।

এছাড়াও আমি পদ্মা পাড়ের মানুষ। পদ্মাতে সেতু তৈরি হওয়াতে আমার খুব ভালো লাগছে। মেয়ের পরিক্ষা শেষ হলে ঘুরে দেখে আসবো। এটা শুধু সেতু নয়, একটি পর্যটনও। আমার মতো অনেকেই ছুটিতে ঘুরতে যাবে।

নগরীর গণকপাড়া এলাকার বাসিন্দা কল্পনা ঘোষ বলেন, সামনেই সেতু উদ্বোধন হবে শুনছি। তোমার চাচা বলেছে। টিভিতেও দেখছি। অনেক খরচা করে বানাচ্ছে সেতু। দেখেই ভালো লাগছে। সেতু শুধু আমাদের না, সবার জন্যই ভালো হবে।

ইদ-পুজার সময় ওই এলাকার মানুষদের টিভিতে দেখি। বাড়ি যেতে সারাদিন চলে যায়, অনেক কষ্ট হয়। সরাসরি নদী পার হতে পারে না। ফেরির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখন দ্রুত নিজ গন্তব্যে যেতে পারবে। হয়রানি কমে আসবে।

নগরীর বেলদারপাড়ার শারমীন ইয়াসমিন (৪৫) জানান, ইউটিউবে, ফেসবুকে, টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর খবর প্রতিদিনই শুনি। ছেলে-মেয়েরা কথার ছলে বলে, পদ্মা সেতু এই মাসে দেখাতে না নিয়ে গেলে আমাকেই পদ্মা নদীতে নিয়ে গিয়ে টুস করে ফেলে দেবে। কী যে আছে সেতুতে কে জানে! সময় সুযোগ হলে যাবো দেখতে। সেতু তো উড়ে যাচ্ছে না। আগে সবাই দেখুক, তারপর আমরা দেখবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ