গোদাগাড়ীতে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ শ্রমিকদের কষ্টের টাকায় ভাগ বসাচ্ছে মেম্বাররা

আপডেট: জুন ১৬, ২০২১, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি:


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (৪০ দিনের প্রকল্প) ব্যাপক অনিয়ম অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯টি ইউনিয়নে অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি কাজ চলছে। ইউনিয়নের দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচির কাজে অতি দরিদ্রদের অর্ন্তভুক্ত করার নিয়ম রয়েছে। ইউনিয়নের মেম্বাররা এই প্রকল্পের জন্য শ্রমিকদের তালিকা করে থাকে। উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে জমাকৃত তালিকাতে ব্যাপক অনিয়ম পাওয়া গেছে। তালিকায় অর্ন্তভৃক্ত বেশির ভাগ শ্রমিক কাজে না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করছেন। গোদাগাড়ী ইউনিয়নের নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন শ্রমিক জানান, যারা কাজে আসে না ওই সব শ্রমিকদের কাছে ৬০ ভাগ টাকা মেম্বাররা আদায় করে থাকে। আর যে সব শ্রমিকের হাজিরার কম থাকে তাদের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ টাকা আদায় করে। এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র গোদাগাড়ী ইউনিয়নে বেশি। বুধবার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক গোদাগাড়ী শাখায় টাকা উত্তোলন করে মেম্বারদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিতে হয়েছে শ্রমিকদের। গোদাগাড়ী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মালেক ও ২ নং ওয়ার্ডের তরিকুর ইসলাম শ্রমিকদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী টাকা আদায় করে। এ সময় এক আদিবাসী নারী শ্রমিক টাকা দিতে না চাইলে মেম্বার ও শ্রমিক নির্দশির মধ্যে তর্ক-বির্তক হয়। নির্দশি বলেন, আমি ৪০ দিনই কাজ করেছি। অথচ আমাকে অনুপস্থিত থাকার কথা বলে ১ হাজার ৬০০ টাকা দাবি ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য তরিকুর ইসলাম। নাম প্রকাশ করে আরো কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রত্যক শ্রমিকের আলাদা আলাদা হিসাব নাম্বার রয়েছে। টাকা উত্তোলনের পর অর্ধেক টাকা মেম্বারকে দিতে হয়। আর টাকা না দিলে সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও প্রকল্পের কাজ বাদ দেয়া হয়। টাকা আদায়ের সময় সাংবাদিকের দেখে দুই মেম্বার সটকে গেলেও টাকা নেওয়ার দূশ্য ধরা পরে।
গোদাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বলেন, অফিস ম্যানেজ করার জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে মেম্বাররা কিছু টাকা নিয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা(পিআইও) প্রকৌশলী আবু বাশির বলেন, প্রকল্পে কাজের অর্ন্তভৃক্ত শ্রমিকদের নিয়মিত কাজ করতে হয়। কাজে অনুস্থিত পাওয়া গেলে প্রকল্প থেকে ওই শ্রমিক বাদ পড়বে। টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই।যদি মেম্বাররা টাকা নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ