গোদাগাড়ীতে অভিযুক্তদের পক্ষে সাক্ষী লাল মুক্তিবার্তায় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার || টাকা লেনদেনের অভিযোগ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সাক্ষী দিয়েছেন লাল মুক্তিবার্তায় তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। এ জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুক্তিযোদ্ধারা জানান, গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত গেজেটভুক্ত এবং অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়। রাজশাহী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফরহাদ আলী মিয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজের নেতৃত্বে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যদের সামনে ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে সাক্ষাতকারের জন্য ডাকা হলেও ৭০ জন মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষাতকার প্রদান করেন।
অভিযোগ পাওয়া যায়, একাধিক মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে বার বার সাক্ষি দিয়েছেন লাল মুক্তিবার্তা তালিকাভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সাক্ষি দেয়ার জন্য কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধা ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ হিসেবে নিয়েছে বলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ইউএনও জাহিদ নেওয়াজ বলেন, একাধিক মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে একই মুক্তিযোদ্ধা বার বার সাক্ষি দেয়ার বিষয়টি কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখবে। আর কেউ যদি মিথ্যা সাক্ষি দিয়ে থাকেন তা প্রমাণিত হলে মিথ্যা সাক্ষি প্রদানকারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। টাকার বিনিময়ে সাক্ষি প্রদান করা প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সদস্য ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) অশোক কুমার চৌধুরী বলেন, টাকার বিনিময়ে সাক্ষি দেয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভালোভাবে জেনে শুনেই যাচাই-বাছাই বোর্ডে তার মতামত প্রদান করবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফরহাদ আলী মিয়ার বোয়ালিয়া থানায় অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নাম রয়েছে। যিনি নিজেই অভিযুক্ত তার দ্বারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়।
সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) মনিউর রহমান মন্টু জানান, ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ২৬ জনই অভিযুক্ত তালিকায় রয়েছে। অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছেন, ভারতীয় নাগরিক আবদুর রহিম, বিএনপি নেতা ও মাটিকাটা ইউনিয়নের আহাম্মদ আলী, তোজাম্মেল হক, রুহুল আমিন (সাবেক আরমি), গোদাগাড়ী পৌরসভার কাইয়ুম আলী, ভুট্টু আলী, মোহনপুর ইউনিয়নের রুহুল আমিন, দেওপাড়া ইউনিয়নের মাহবুব। এসব মুক্তিযোদ্ধারা বিএনপির আমলে অতিরিক্ত গেজেটভুক্ত হয়ে ভাতা গ্রহণসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। এদিকে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে প্রায় অর্ধ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার নামের তালিকা না আসায় তারা সাক্ষাতকার দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও এসব মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসে নি। তবে এসব মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে থেকে নির্দিষ্ট ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।