গোদাগাড়ীতে আমন ধানে পচন ও পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক

আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


গোদাগাড়ীর একটি খেতে আমন ধানে খোল পচা ও পোকার আক্রমণ সোনার দেশ

গোদাগাড়ীতে আমন ধানে খোল পচা ও বাদামি ফড়িং (ফুদকি) পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। এতে করে আমন ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানান, আমন ধানের শীষ চালে পরিণত হয়েছে। এমন সময় আমন চারার গোড়ায় খোল পচা রোগ ও ধান গাছের বিভিন্ন অংশে বাদামি ফড়িঙের আক্রমণ দেখা দেয়ার পর থেকেই কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। কিন্তু একাধিক বার কীটনাশক স্প্রে করেও খোল পচা রোগ ও বাদামি ফড়িং পোকা দমন হচ্ছে না।
গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষ্ণপুরের কৃষক আজাহার উদ্দীন ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। এরমধ্যে ৮বিঘা জমিতে রোপনকৃত ব্রি-৫১ ধানে বাদামি ফড়িং পোকা আক্রমণ করেছে। কীটনাশক ব্যবহার করে পোকা দমন হচ্ছে না। কৃষক আজাহার উদ্দীন বলেন, গত চার সপ্তাহ আগে আমনে পোকা দেখা দিলেও কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তাদের পাওয়া না যাওয়ায় বিক্রেতাদের পরামর্শ অনুযায়ী জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করে কোনো কাজ হচ্ছে না।
উপজেলার আইহাই রাহীর কৃষক এনামুল বলেন, ধান গাছের গোড়ায় পচনে লালচে হয়ে ধানের চারা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও ধান গাছের বিভিন্ন অংশে বাদামি ফড়িং পোকার আক্রমণের কারণে গাছের চারার রস কমে গিয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এসব আমন ধানের গাছে বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার ও কীটনাশক স্প্রে করে লাভ না হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলায় আমনের চাষ হয়েছে ২৪ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে। চিকন স্বর্ণা, গুঠি স্বর্ণা, ব্রি-৫১সহ বিভিন্ন জাতের ধান রয়েছে।
গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, পোকা দমনে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।
এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার -জৈটাবটতলা, দুধাই, পাকড়ী, গোগ্রাম, পরমান্দপুর, কাকনহাট, তানোরের- মন্ডুমালা, পাচন্দর. কামাগাঁও, চাপাইনবাবগঞ্জের, আামনুরা নাচোলের-নিজামপুর, হামেদপুর, নওগার- সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পোকা দমনে ব্যস্ত কৃষকেরা। নিজামপুরের কৃষক আবদুল কাইউম বলেন, মাস খানেক পর আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হবে। আর শেষ মুহূর্তে পচন ও পোকার আক্রমণে ধানের উৎপাদন কমে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ