গোদাগাড়ীতে করোনা শনাক্তের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর প্রবেশদ্বার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

আপডেট: মে ২৫, ২০২১, ৯:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও গোদাগাড়ী প্রতিনিধি:


করোনার কারণে গোদাগাড়ীর সীমানা ঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিশেষ লকডাউন শুরু হয়েছে। তাই প্রতিবেশি হিসাবে গোদাগাড়ীতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বর্তমানে গোদাগাড়ীতে করোনা শনাক্তের হার ৫০ ভাগ।
গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তালেব বলেন, গত এক সপ্তাহে থেকে প্রতিদিনই করোনা শনাক্ত উর্ধ্বে গতির দিকে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৫ মে) ১১ জনের করোনা পরীক্ষা করা হলে ৮ জানের করোনা পজিটিভ আসে। সোমবার ৮ জনের মধ্যে ৩ জন এবং রোববার ৩৭ জনের মধ্যে ১৩ জনের করোনা পজেটিভ আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহের বব্যধানে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিবারে দাবি এসব মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হলেও তারা অন্য রোগে মারা যায়। এদিকে ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় গোদাগাড়ী ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ১২ থেকে পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিশেষ লকডাইন চলছে। এতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী জেলায় কেউ প্রবেশ করতে না পারে এ জন্য গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাটায় চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। নৌ পথসহ সব রাস্তা বন্ধ দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকাল ৩ টার দিকে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল ও পুলিশ এবিএম মাসুদ হোসেন বালিয়াঘাটা এলাকায় চেকপোস্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) শরীফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানে আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাছমিনা খাতুন, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক খান প্রমখ।
এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশেষ লকডাউন সফল করতেই প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী জেলায় বিশেষ লকডাউনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতনতা করার কাজ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এক যোগে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব এর কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুর সাড়ে ৩ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর প্রবেশদ্বার গোদাগাড়ীর বালিয়াঘাটা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল সাংবাদিকদের জানান, পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া কোনকিছু চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। চালক-হেলপাররা যেন মাস্ক পরে সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্ট সবার সাথে মিটিং করছি।
এছাড়াও তিনি বলেন, রাজশাহী শহরের নিরাপত্তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং শহরে এখন প্রতিদিন চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম থাকছে। আমরা এখন মাস্ক পরার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।
রাজশাহীর এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশাপাশি গোদাগাড়ী আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংযোগ সড়কগুলোও বন্ধ করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেন ভারতের মাদক না আসে, সে ব্যাপারেও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বর্ডারে ভারত প্রত্যাগত যে সকল বাংলাদেশ নাগরিক রাজশাহী জেলায় প্রবেশ করবেন, তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোরেনটাইন এর ব্যবস্থা করা হবে। তাদের নগরীর সপুরায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (এইচএসটিটিআই), মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র সপুরা প্রতিষ্ঠান তিনটিতে প্রাতিষ্ঠানিক কোরেনটাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে যারা করোনা পজিটিভ হবেন তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানিক কোরেনটাইন এর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ