গোদাগাড়ীতে কুয়াশায় বোরো বীজতলার ক্ষতির শঙ্কা

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ


গোদাগাড়ী প্রতিনিধি:


গোদাগাড়ীতে ঘন কুয়াশার কবলে পড়েছে বোর বীজতলা। এ কারণে বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পঁচা রোগ এবং চারা হলুদ হয়ে দুর্বল হওয়াসহ মারাত্মক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা ও শীতের ক্ষতি এড়াতে বোরো চারা বৃদ্ধি এবং নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাব কমিয়ে আনতে সাদা পলিথিন সিট দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখাসহ বেশকিছু পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলার পরিচর্যা করা সম্ভব হলে ঝুঁকির শঙ্কা কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ১৪ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭২৫ হেক্টর বেশি। উপজেলার সদর ডাঙ্গাপাড়ার কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, এমনিতেই আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন ভালো হয়নি। এবার ঘন কুয়াশা ও শীতে বোরো বীজতলাও হুমকির মুখে রয়েছে। এ নিয়ে কৃষকরা দুঃশ্চিন্তায় আছি।

পাকড়ীর ইউনিয়নের কৃষক সুধীর বলেন, বীজ কিনতে গেলে দাম আকাশ ছোঁয়া। তারপরও নতুন স্বপ্ন নিয়ে বোরো বীজতলা বুনেছি। এখন কুয়াশা ও শীতে কি হয় বুঝতে পারছি না। মোহনপুর ইউপি নশিদানপুরের কৃষক সামায়ন কবির বলেন, আমনতো গেলো কারেন্ট পোকার পেটে। ধান পাইনি। আবার বোরো বীজ বুনেছি। এখন পিছিয়ে আসার পথ নেই। আশায় বুক বেঁধে আছি।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, চারার বৃদ্ধিতে নিম্ন তাপমাত্রার প্রভাব কমিয়ে আনার জন্য ঘন কুয়াশা ও শীতের সময় বোরো ধানের বীজতলা সকাল ১০টা থেকে সাদা পলিথিন সিট দিয়ে ঢেকে রেখে সন্ধ্যার পূর্বে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় পানি সেচ দিয়ে বীজতলার চারা ডুবিয়ে দিতে হবে। সকালে সেই পানি বের করে দিতে হবে এবং প্রতিদিন সকালে দড়ি টেনে দিয়ে বীজতলার চারায় জমাকৃত শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে।

এছাড়া বীজতলায় প্রতি শতকে ২০০ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ গ্রাম এমওপি ও ৪০০ গ্রাম জিপসাম সার উপরিভাগে প্রয়োগ করতে হবে। শৈত্য প্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলার চারা হলদে হয়ে গেলে প্রতি শতক জমিতে ২৮০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া ১০ লিটার পানিতে ৬০ গ্রাম পটাশ ও ৬০ গ্রাম জিপসাম সার মিশিয়ে বীজতলায় স্প্রে করতে হবে। শীতের ঠাণ্ডায় বীজতলার চারার গোড়া বা পাতা পঁচা রোগ দেখা গেলে ব্যাভিস্টিন বা মেনকোজেব গ্রুপের যেকোনো একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। যতদিন শৈত্য প্রবাহ থাকে ততদিন এ পদ্ধতি চালিয়ে যেতে পারলেই সুফল মিলবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবীদ তৌফিকুর রহমান বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য। ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত শীত থেকে বোরো বীজতলা রক্ষা করতে হলে প্রথমত পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। ছত্রাকনাশক প্রয়োগ, ভোরের সেচের উষ্ণ গরম পানি ছিটানো এবং রাতে ঠাণ্ডা পানি নামিয়ে দিতে হবে। এসব পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারলে কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই। বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় না হলে এবারও বোরোর বাম্পার ফলন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।