গোদাগাড়ীতে গম বিতরণ নিয়ে সংঘর্ষে আহত পাঁচ ।। কাউন্সিলর কাফি আটক

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৭, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভিজিএফ’র গম বিতরণকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাকনহাট পৌরসভায় গম বিতরণের সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কাকনহাট পৌরসভায় ভিজিএফ’র গম বিতরণ করা হচ্ছিল। এসময় পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল কাফি তালিকার বাইরে তার ওয়ার্ডের কয়েকজনকে গম দিতে গেলে পৌরসভার অন্য কাউন্সিলর ও কর্মচারীরা বাধা দেয়। উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে সাতজন আহত হয়।
আহতরা হলেন- পৌরসভার কাউন্সিলর সেলিম রেজা, জাহাঙ্গীর হোসেন, আবদুল্লাহিল কাফি, পৌর কর্মচারী রুবেল হোসেন ও হেনা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল কাফিকে আটক করে পুলিশ।
কাকনহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল মজিদ বলেন, কাকনহাট পৌরসভায় চার হাজার ৪৬ জনকে ১৩ কেজি করে ভিজিএফ’র গম বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৫০ জনকে কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয়। সেই মোতাবেক ৩ নম্বর ওয়ার্ডে তালিকাভুক্তদের মাঝে ভিজিএফ’র গম বিতরণ করা হচ্ছিল। এসময় ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল কাফি ২০-২২ জনকে সঙ্গে করে নিয়ে জোর করে তালিকার বাইরে গম বিতরণ করা শুরু করে। তখন তাকে পৌর কর্মচারীরা ও উপস্থিত কাউন্সিলররা বাধা দিতে গেলে আবদুল্লাহিল কাফি ও তার লোকজন পৌর কর্মচারী এবং কাউন্সিলরদের উপর হামলা চালিয়ে ভিজিএফ’র গম লুট করার চেষ্টা করে।
জানতে চাইলে কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, আমার মনোনীত লোকজনক কার্ড না দিয়ে সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলরের পছন্দমতো লোকজনকে কার্ড দেয়। এতে করে আমার ওয়ার্ডের অনেক অসহায় মানুষ বঞ্চিত হয়। আমি এ বঞ্চিত অসহায় মানুষদের কার্ড দেয়ার জন্য কথা বলতে গেলে পৌরসভার কর্মচারী ও কাউন্সিলররা আমার উপর হামলা চালায়। আমি ও আমার দুইজন সহযোগী আহত হয়েছি। এ ঘটনায় কাকনহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র আজাহার আলী গোদাগাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কাউন্সিলর আবদুল্লাহিল কাফিসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
জানতে চাইলে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, মামলাটি দ্রুত আইনে নেয়া হবে। মামলার অন্য আসামিদের আটক করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় লোকজন ও পৌরসভার একাধিক সূত্র জানায়, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা শপথ নেয়ার পর থেকেই আবদুল্লাহিল কাফির সঙ্গে মেয়র ও অন্য কাউন্সিলরদের বিরোধ চচ্ছিলো। কাফি কানহাট ইজারদারের কাছে চাঁদা নিলে মেয়র ও অন্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে দূরুত্ব আরো বেড়ে যায়। আর এই দূরুত্বকে কেন্দ্র করেই আবদুল্লাহিল কাফি পরিকল্পিতভাবে পৌরসভায় গিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোর্ত্তজা দাবি করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ