গোদাগাড়ীতে টমেটো পাকাতে কীটনাশক ব্যবহার ১০ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি :


মেডিসিন দিয়ে পাকানো টমটো
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে টমেটো পাকাতে কীটনাশক ব্যবহারের দায়ে ১০ জনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনির হোসেন ও র‌্যাব উপজেলার মহিশালবাড়ী ও লালবাগ হেলিপ্যাড এলাকায় অভিযান চালিয়ে টমেটো পাকাতে কীটনাশক ব্যবহারের সময় ১০ জনকে আটক করে।
পরে আটককৃতদেরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনির হোসেন। জরিমানা প্রাপ্তরা হচ্ছেন, গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সরমঙ্গলা গ্রামের খলিলুলের ছেলে সাদিকুল (৩৪), বেলালের ছেলে হারুন অর রশিদ (৩৫), রামনগর গ্রামের জার্জিসের ছেলে মোশাররফ (৩৪), চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ মোবারকপুরের ইসরাইলের ছেলে ইউনুসুর রহমান (৩৫), শরিয়তপুরের জাজিরা উপজেলার চর ঘোড়াতলা গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে আলমগীর (৩৮), আবদুল ফরাজির ছেলে লিটন (৩৫), সাজের চর গ্রামের হোসেন ফকিরের ছেলে বেলাল (৩৫), চর কামারগ্রামের জালালের ছেলে মজিবুর (৪০), চব্বিশপাড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে রতন সরদার (৩৮) ও গায়বান্ধার পলাশ থানার রাজনগর গ্রামের কশিরুদ্দীনের ছেলে লাল মিয়া (৩৫)।
কৃষকরা জানান, আর্থিক দ-প্রাপ্তরা সবাই টমেটো ব্যবসায়ী। কৃষকদের কাছ থেকে কাচা টমেটো ক্রয় করেন। এরপর ব্যবসায়ীরা টমেটো পাকানোতে হরমন জাতীয় মেডিসিন ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী টমেটোর বেশি লাল রং ও চকচকে সুন্দর করতে কীটনাশক জাতীয় গার্ডেন ব্যবহার করছে। গার্ডেনের বোতলে লেবেলে পরিস্কারভাবে লেখা রয়েছে ফল পাকানোর কাছে ব্যবহার করা যাবে না। অথচ ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফা পাওয়ার জন্য টমেটো পাকানোর কাছে ক্ষতিকর কীটনাশক জাতীয় গার্ডেন ব্যবহার করছেন। গোদাগাড়ীর কৃষক আন্দোলনের নেতা মুখলেসুর রহমান বলেন, গত ২০/২৫ বছর ধরে এই অঞ্চলে হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষ করে আসছেন কৃষকরা। জমি থেকে পরিপক্ক টমেটো সংগ্রহ করে ফল পাকানোর কাজে ব্যবহারকৃত হরমন জাতীয় মেডিসিন ব্যবহার করা হচ্ছে চমেটো পাকানোর কাজে। ২০১০ সালের দিকে উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদফতর টমেটো পাকানোর কাজে ব্যবহারকৃত হরমন জাতীয় মেডিসিন পরীক্ষা করে। এরপর পরীক্ষার রির্পোটে উল্লেখ্য করা হয়, হরমন জাতীয় মেডিসিনে ক্ষতিকর কিছু নেই। তবে গত কয়েক বছর থেকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা পাওয়ার জন্য হরমন জাতীয় মেডিসিন সঙ্গে কীটনাশক জাতীয় দব্য ব্যবহার করছেন। ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তৌফিকুর রহমান বলেন, হরমন জাতীয় মেডিসিন মাত্রা অনুযায়ী টমেটো পাকানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে টমেটো পাকানোর কাজে কীটনাশক ও বিষ জাতীয় কোনো দ্রব্য কিংবা মেডিসিন ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ