গোদাগাড়ীতে ঠাকুর নরত্তোম দাসের তিন দিনব্যাপী মহোৎসব শেষ

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি
লাখ লাখ ভক্তের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঠাকুর নরত্তোম দাসের তিরোভাব তিথি স্বরণ মহোৎসব। রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী খেতুরী ধামে ঐতিয্যমন্ডিত গৌরাঙ্গ বাড়িতে গত বুধবার শুভ অধিবাসে শুরু হয়ে গতকাল শুক্রবার মহান্ত বিদায়ে এ নরত্তোম দাসের তিথি স্বরণ মহাৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে অনুসারী ও ভক্তরা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ সনাতন ধর্মের পূজারীরা গৌরাঙ্গবাড়িতে এসে দিন রাত কীর্তন, পূজা, প্রসাদ গ্রহণ ও প্রার্থনা করে ঠাকুর নরত্তোম দাসকে স্বরণ করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, ঠাকুর নরত্তোম দাসের তিরোভাব তিথি স্বরণ মহাৎসবকে ঘিরে ৫ কিলোমিটার এলাকার জুড়ে নিরাপত্তা নেয়া হয়। এছাড়াও গৌরাঙ্গবাড়ি এলাকায় ভক্তদের জন্য স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি ব্যবস্থা ছিল পর্যাপ্ত পরিমাণে। তিনটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এবার প্রথম স্বাস্থ্য ক্যাম্পগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন ও গৌরাঙ্গবাড়ী ট্রাস্টির ব্যবস্থাপনায় মহাৎসব স্থলে পরিবেশ খুবই ভালো ছিল বলে আগত ভক্তরা জানান। বিগত বছরের চেয়ে এবার গৌরাঙ্গবাড়ীতে মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশি। তিনদিন ধরে গৌরাঙ্গবাড়ীতে ঢল নামে ভক্ত ও অনুসারীদের।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদাহার থকে আসা ৬৫ বছরের কল্যাণী ঘোষ বলেন, গত ৩০ বছর ধরে ঠাকুর নরত্তোম দাসের তিরোভাব তিথি স্বরণ মহাৎসবে আসে। এবার নাতি ও ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে এসেছে। পরিবারে মঙ্গল কামনা ছাড়াও পৃথিবীতে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে। এজন্য ঠাকুর নরত্তোম দাসের কাছে প্রার্থনা করেছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ৮০ বছরের অভিজিৎ রায় বলেন, ঠাকুর নরত্তোম দাস ছিলেন অহিংসা মহান সাধক। তিনি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তাই তার আদর্শকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে একযোগে দেশ ও সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে। নেপাল আগত অমিতা শ্রেষ্ঠা বলেন, ঠাকুর নরোত্তম দাস মানুষ রুপে আসলেও তিনি মূলত ছিলেন ভগবান। তার কাছে গরীব-ধনী, বর্ণ-গোষ্ঠী কোন কিছুই ভেদাভেদ ছিল না। সবাইকে মানুষ হিসাবে গ্রহণ করে শান্তির পথে ডাক দিত এবং সমাজে হানাহানি, মারামারি, হত্যাসহ সব ধরনের কাজ থেকে মানুষকে দূরে থাকার জন্য বলতেন। এদিকে তিন দিনব্যাপী সুষ্ঠুভাবে ঠাকুর নরত্তোম দাসে তিরোভাব তিথি স্বরণ মহাৎসব সম্পূর্ণ হওয়ায় রাজশাহী জেলা ও গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা শিক্ষা অধিদফতর, প্রেমতলীবাসী, মাটিকাটা ও গোগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ, প্রেমতলী সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভক্ত ও অনুসারীসহ সহযোগী সব সংস্থাকে ও মানুষের প্রতি কৃজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়েছে গৌরাঙ্গবাড়ী ট্রাস্টি সভাপতি ড. মদন মোহন দে।