গোদাগাড়ীতে ডিলারদের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি



রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চড় আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল দুই ডিলারের বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের পানিহার গ্রামের ১০ টাকা কেজি চালের সুবিধাভোগী প্রায় অর্ধশত বঞ্চিত ব্যক্তি গত রোববার গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ নেওয়াজের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে দুই ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাউল কবীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, চড় আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের নিয়োগকৃত চাল ডিলার মাইনুদ্দিন ও আবুল কাশেম ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির নিয়মবিধি না মেনে তা আত্মসাত করেছেন। চলতি নভেম্বর মাসসহ হতদরিদ্রদের মাঝে তিন মাসে তিনবার চাল বিতরণের কথা। কিন্তু প্রথম মাস শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরে চাল বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসের চাল হতদরিদ্রদের না দিয়ে দুই ডিলার পুরোটাই আত্মসাত করেছেন। এছাড়া খাদ্য অধিদফতরের দেয়া সুবিধাভোগী কার্ড ডিলাররা নিজেদের কাছে রেখেছেন। কার্ডগুলো ডিলাররা তাদের কাছে রেখে নিজেরাই তারিখ বসিয়ে দিয়ে টিপসই ও স্বাক্ষর করে নিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, এছাড়া মোট সুবিধাভোগীর প্রায় ৩৫ ভাগ ব্যক্তিকে  চাল দেয়া হয় না। নানান অজুহাতে ডিলাররা নিজেরাই ভোগ করছেন। এভাবে তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ডিলার আবুল কাশেম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্রে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক না। কিছু কার্ড সংশোধন করায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একারণে হয়ত চাল বিতরণ পুরোপুরি সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয় নি। তবে পরবর্তীতে আর সমস্যা থাকবে না বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলাওল কবির বলেন, তদন্ত শুরু করেছি। আমরা সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছি। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এছাড়া ডিলারদেরও এ ব্যাপারে জিঙ্গাসাবাদ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ বলেন, তদন্ত চলছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।