গোদাগাড়ীতে ধান সংগ্রহ বন্ধ: নতুন করে লটারি ||৮০০ কৃষকের তালিকা বাতিল

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২০, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ে ধান সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অজির্ত না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা জানান, স্বচ্ছভাবে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর লটারির মাধ্যমে তালিকা তৈরি করা হয়। এতে মোট ২ হাজার ৫৯৮ কৃষকের তালিকা করা হয়। এর মধ্যে ৭৭৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা বাকি থাকতেই গত বৃহস্পতিবার তালিকাটি বাতিল করা হয়। ওই দিন রাতে কৃষক ছাড়াই নতুন করে লটারি দেখিয়ে তালিকা প্রস্তুত করলে আগের লটারিতে নাম উঠা কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে।
গোদাগাড়ী উপজেলায় গত ১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। এ উপজেলায় প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে ১ মেট্রিক টন করে মোট ২ হাজার ৫৯৮ টন ধান কেনা হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। তবে এরই মধ্যে প্রায় ১৫ দিন ধান কেনা বন্ধ ছিলো। তারপর ধান কেনা শুরু হয়। চার দিন ধান কিনে গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে পুরনো তালিকার ৭৭৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান নেয়া হচ্ছে না। অথচ ধান সংগ্রহ অভিযানের আগেই প্রায় ১০ হাজার কৃষকের উপস্থিতিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রকাশ্যে লটারি করা হয়েছিল। সেখানে এদের নাম উঠেছিল। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। লটারিতে নাম আসায় ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করার আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরা। এখন তারা হতাশায় ভুগছেন। বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ফিরে আসেন সদোল গ্রামের কৃষক তসিকুল ইসলাম। তার কার্ড নম্বর- ১০৩১। আর লটারি নম্বর- ৯৮৬। তসিকুল জানান, লটারিতে নাম থাকার কারণে বৃহস্পতিবার তিনি এক টন ধান নিয়ে খাদ্যগুদামে যান। কিন্তু ধান নেয়া হয়নি। তিনি ফিরে এসেছেন। ধান নিয়ে যাওয়ার কারণে তার এক হাজার টাকা গাড়ি ভাড়াও লেগেছে। তার সবই ক্ষতি হয়েছে। তসিকুল জানান, বৃহস্পতিবারই তার মতো অন্তত ৫০ জন কৃষক ধান নিয়ে গিয়ে ফিরে এসেছেন। তাদের জানানো হয়েছে, পুরনো তালিকা অনুযায়ী আর ধান নেয়া হবে না। নতুন তালিকা হবে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানের সার ডিলারদের মাধ্যমে কার্ডপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ৭৭৭ জনের নতুন তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা সংগ্রহ কমিটি এই তালিকা চূড়ান্ত করে। কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এই কমিটি রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করে তালিকা করে। বাদ পড়া কৃষকরা জানান, কী কারণে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে সেটাও জানানো হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, অনিয়ম করেই নতুন ৭৭৭ জনের তালিকা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, আগের তালিকাটি ত্রুটিপূর্ণ থাকায় নতুন করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অথচ আগের তালিকাটিও কৃষি অফিসারের তৈরি করা। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে চাইনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকে শুধু কার্ডধারী কৃষকদের লটারিতে স্থান দিতে হবে। আমরা সেই কাজটি করেছি।