গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলক চাষকৃত ব্রি-ধান ৮১এর ব্যাপক ফলন

আপডেট: মে ২, ২০২১, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


গোদাগাড়ীতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রি ধান-৮১ এর চাষ করা হয়। প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে এই ধানের চাষ হয়। গতকাল রোববার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ধান কাটা উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক কে.জে.এম আব্দুল আওয়াল। তিনি কৃষকদের খরা সহিষ্ণু এই ফসল বেশী করে চাষ করার পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন, এই ধান চিকন হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও ভাত সু-স্বাদু হওয়ার কারনে ক্রেতা পর্যায়ে সমাদর রয়েছে। আগামীতে এই ধানের চাহিদা আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। সেইসাথে কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে আগামী বছরের আরো বেশী করে এই ধান চাষ করার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।
এদিকে গোদাগাড়ীর কৃষক মুনসুর রহমান বলেন, গত বছরে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস হতে ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং বিতরণ প্রকল্পের মাধমে মাত্র ৫০ কেজি ব্রি ধান-৮১ বীজ বিনামূল্যে নিয়ে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে চাষ করেন। বিঘা প্রতি তিনি প্রায় ৩০-৩২ মন করে ধান পান। এই ধান হতে তিনি ৫০মন ধান বীজ হিসেবে সংরক্ষণ করেন।
চলতি বোরো মৌসুমে তিনি প্রতিমন বীজ দুই হাজার চারশত টাকা করে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বীজ বিক্রয় করেন। এই বীজ নিয়ে কৃষকরা প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে এই মৌসুমে চাষ করেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এই ধানের চাষ এবং সার্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা করেন বিদিরপুর ক্লকের কৃষি উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফুল ইসলাম। তবে আগামী মৌসুমে এই ধান চাষ করার জণ্য কৃষকরা এখনই তার নিকট বীজ চাচ্ছেন বলে জানান মুনসুর।
কৃষি উপসহকারী আশরাফুল ইসলাম বলেন, এই ধান সহজে ঝড় এবং বাতাসে মাটিতে লুটিয়ে পড়েনা। এছাড়াও খরা সহিষ্ণু হওয়ায় অল্প পানিতেই ধান চাষ করা যায়। রোগ বালাই নাই বললেই চলে। শুধু মাত্র মাজরা পোকার আত্রমণ হতে পারে। এতে চিন্তার তেমন কিছু নাই। তিনি বলেন, ১৫ সদস্যের জামাদানী বীজ উৎপাদন কৃষক দল গঠন করা হয়। এই দলের কৃষকরা বীজ সংগ্রহ করে থাকে।
চাষ সম্পর্কে কৃষি তিনি বলেন, জমিতে ভাল করে তিন থেকে চারটি চাষ তিয়ে ৩০ দিনের চারা ২-৩টি করে রোপন করতে হবে। সারিবদ্ধভাবে রোপন করলে ভাল হয়। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম এবং আলো বাতাস বেশী লাগে বলে জানান তিনি। জমি তৈরী করার সময় বিঘা প্রতি টি.এস.পি-২০ কেজি, এম.ও.পি-২০ কেজি, জিপসাম-১০ কেজি, দস্তা-১কেজি এবং ইউরিয়া সার চারা রোপন থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৫ কেজি জমিতে প্রয়োগ করলেই হয় বলে জানান আশরাফুল।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মতিয়র রহমান মুন্না বলেন, এই ধান আগামীতে খাদ্য সংকট দূর করতে সহায়তা করবে। সেইসাথে সরকারের খাদ্য উৎপাদনের লক্ষমাত্রা পুরনে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার চাচ্ছেন দেশে কোন প্রকার খাদ্য সংকট না হয়। কারণ বর্তমানে করোনায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দেশ খাদ্য নিয়ে হিমশিম খেলেও বাংলাদেশ এখনো খাদ্য উৎপাদনে এগিয়ে আছে। দেশে প্রতিনিয়ত কৃষি জমি কমে আসছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উৎপাদন না করলে আগামীতে খাদ্যের চাহিদা পুরনে সমস্যা হবে। সেজন্য সরকার উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ধান উৎপটদনের জন্য নানা ধরনের সহায়তা ও বিনামূলে বীজ, সার প্রদান সহ নানা ধরনের প্রনোদণা দিয়ে যাচ্ছেন। এই ধরনের ধান চাষ করলে দেশের চাহিদা পুরণ করে বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
এসময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহিল কাফি, কৃষক তাহাহুল ইসলাম, রকিুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামানসহ আরো অনেকে।