গোদাগাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলন, দামে মন্দা

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


বরেন্দ্র অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন হলেও আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাট চাষিরা। রাজশাহীর গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। প্রতি বিঘায় পাটের উৎপাদন হয়েছে ৭ থেকে ১০ মন। আর খরচ হয়েছে ৯ হাজার টাকা।
কৃষকরা জানান, পাটের ফলন ভাল হলেও হাট-বাজারে পাটের দাম কম হওয়ায় প্রতি বিঘায় দুই হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে। উপজেলার বিদিরপুর, রাজাবাড়ী, গোদাগাড়ী, কাঁকনহাট, কামারপাড়া হাট বাজারে প্রতি মন পাট বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায়। আর গত বছর প্রতি মন পাট বিক্রি হয় ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাট ক্রয় করায় দাম কমে গেছে বলে পাটচাষিরা জানান। উপজেলার হরিশংকরপুরে কৃষক আনারুল ইসলাম চলতি মৌসুমে ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছে। প্রতি বিঘায় খরচ ৯ হাজার টাকা হলেও উৎপাদন হয়েছে ৮ মন। প্রতি মন পাট বিক্রি করেছে ৯০০ টাকায়। কৃষক আনারুল ইসলাম জানান, গত বছর ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ৬ হাজার টাকা লাভ হওয়ায় এবার পাটের চাষ আরও ১ বিঘা বাড়িয়েছিলাম। উপজেলার চর আষাড়িয়াদহের কৃষক দুরুল হোদা বলেন, গত ১০ বছর ধরে পাট চাষ করে আসছি। গত বছর পাটের ফলন কিছুটা কম হলেও ভাল দাম পাওয়ায় লাভবান হয়েছিলাম। কৃষক দুরুল হোদা চলতি মৌসুমে ৮ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় পাট চাষে এই কৃষকের খরচ হয়েছে ৭ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ৯ মন। হাটবাজারে দাম কম হওয়ায় এখনও পাট বিক্রি করতে পারে নি তিনি।
পাট ব্যবসায়ীরা জানান, পাটের সরবরাহ বেশি থাকায় মোকামে পাটের দাম কম। তবে পাটের দাম কিছুটা বাড়বে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান।
গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, আবহাওয়া পাট চাষের জন্য উপযোগী ছিল। রোগ বালাই কম হওয়ায় পাটের ফলন ভাল হয়েছে। পাটের বাজার মনিটরিং করে সিন্ডিকেট তৈরির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রাজশাহীর পবা, তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা, নাচোল, নওগার নিয়ামতপুর, সাপাহার, পোরসাসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের পাটের ফলন ভাল হলেও দাম কমের কারণে কৃষকেরা পাট বিক্রি করতে পারে নি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ