গোদাগাড়ীতে পৌর করের নামে গরু পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০১৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি



রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে গরুর ট্রাক ও ভটভটি থেকে পৌর করের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মেয়র-কাউন্সিলরের স্বাক্ষর ছাড়াই পৌরসভার রশিদে ২০০ ও ১০০ টাকা করে এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুলতানগঞ্জ নামক স্থানে ট্রাক প্রতি ২০০ টাকা এবং নসিমন প্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আদায়কারীরা ২০০ ও ১০০ টাকার আদায়কৃত রশিদ দিচ্ছে পৌরসভার নামে। তবে পৌর কর আদায় রশিদে গোদাগাড়ী পৌরসভার কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও মেয়র কাউন্সিলরের স্বাক্ষর নেই। পৌর করের নামে চাঁদা আদায়ের সঙ্গে জড়িত রেজাউল, মমিন, নবী বলেন, পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়ে তারা পৌর কর আদায় করছে।
পৌরসভার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাউন্সিলর জানায়, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কে পৌরকর আদায়ের বৈধতা নেই গোদাগাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কোন ইজারা বিজ্ঞপ্তি ছাড়ায় মেয়র ব্যক্তিগতভাবে সুলতানগঞ্জে পৌর কর আদায়ের অনুমতি দিয়েছে। গরুর ট্রাক ও নসিমন থেকে আদায়কৃত টাকা পৌরসভার নিজস্ব তহবিলে হয় নি বলে পৌরসভার হিসাব রক্ষক হেলাল উদ্দীন নিশ্চিত করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি আবু সাইদ (ড্রাইভার) বলেন, সুতলতানগঞ্জে গরুর ট্রাক ও নসিমন থেকে পৌর কর আদায়ের সঙ্গে জড়িতরা  বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এদের যে নেতা সেই মেয়রের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ্য জন। শ্রমিকেরা পৌর কর আদায়ে বাধা দিলেও পুলিশ একদিনের জন্য পৌর কর আদায় বন্ধ রাখে। গতকাল রোববার সকাল থেকেই আবারও পৌরকরের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, সুলতানগঞ্জসহ মহাসড়কে পরিবহন থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে পৌর কর আদায়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ইজারা দিয়েছে বলে তাকে জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন ২শতাধিক গরুর ট্রাক ও নসিমন মহাসড়কের ওপর দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। তবে রবি ও বুধবার রাজশাহীর সিটির হাটের কারণে দুইদিন ৫ শতাধিক ট্রাক ও নসিমন গরু-মহিষ নিয়ে যায়। গরুর ট্রাক ও নসিমন চালকেরা জানান, পৌর করের নামে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে মারধরসহ খারপ আচরণ করে আদায়কারীরা।
পৌর কর আদায় প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক পৌরকর আদায় করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ