গোদাগাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন || ৩০ জন ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। গেজেটভুক্ত ১৩০ জনের মধ্যে ১শ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বৈধ করা হয় এবং ৩০ জনকে বাতিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গেজেটভুক্ত ১৩০ জন, অনলাইনে আবেদনকৃত ২৪৯ জন ও সরাসরি আবেদনকৃত ২৯ জনের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি। এরপর গেজেটভুক্ত ১৩০ জনের মধ্যে ১শ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বৈধ করা হয় এবং ৩০ জনকে বাতিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অনলাইন ও সাধারণভাবে আবেদনকৃত ২৭৮ জনের মধ্যে ২৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাতিলকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলেন, উপজেলার হরিশংকরপুর গ্রামের মৃত জাবেদ আলীর ছেলে আবেদ আলী, চর বয়ারমারী গ্রামের মৃত নকিমুদ্দিনের ছেলে আবদুর রাজ্জাক, শ্রীমন্তপুর গ্রামের বেলায়েত আলীর ছেলে নূর মোহাম্মদ মিয়া, চর বয়ারমারী গ্রামের সাবেদ আলী মন্ডলের ছেলে আবদুল হাকিম, ভাটোপাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ মোল¬ার ছেলে তোজাম্মেল হক, সিধনা গ্রামের মৃত জয়নাল বিশ্বাসের ছেলে মৃত মাইনুল হক, বেনীপুর গ্রামের তামেজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আহম্মদ আলী, নাজিরপুর গ্রামের মৃত লেওয়াজি মন্ডলের ছেলে মৃত আবদুর রহমান, শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মৃত নজরুল ইসলাম, বুজরুকপাড়া গ্রামের মৃত মাসিয়াতুল¬া মন্ডলের ছেলে নজরুল ইসলাম, বিদিরপুর গ্রামের মৃত দরবারি মন্ডলের মৃত মোসলেম উদ্দিন, উজানপাড়া গ্রামের মৃত ফসিউদ্দিন সরকারের ছেলে আলতাব হোসেন, বড়গাছি গ্রামের মৃত ইয়ার মোহাম্মদ সরকারের ছেলে মৃত আবদুল কুদ্দুস সরকার, পিরিজপুর গ্রামের মৃত আজাহার হোসেনের ছেলে শাহজাহান, কাশিমপুর গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে নাজমুল হক, মোল¬াপাড়া গ্রামের মৃত যোগেন্দ্রনাথের ছেলে বীরেন্দ্রনাথ, মান্ডইল গ্রামের মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আব্দুল লতিফ, হরিণবিস্কা গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে আবু মুসা, সৈয়দপুর গ্রামের মৃত হাজী আমিনুদ্দীন সরকারের মৃত সাবেদ আলী, আলতাব হোসেন ও সুলতান সরকার, মালিগাছা গ্রামের আলতাব হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম, কদমশহর গ্রামের মৃত সেরাজ উদ্দিনের ছেলে মৃত জুলমত আলী, ভগবন্তপুর গ্রামের মৃত আমানত আলী বিশ্বাসের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম, বারুইপাড়া গ্রামের মৃত বেলাল উদ্দিনের ছেলে আফজাল হোসেন, রসুলপুর গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, বালিয়াঘাট্টা গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে আবুল কাশেম এবং ওবিয়া বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত ইসলাম মন্ডলের ছেলে গোলাম মোস্তফা। বাতিল হওয়া মুক্তিযোদ্ধারা ভাতা গ্রহণ করে আসছিল। এদিকে বৈধ কাগজ থাকার পরেও অনেক মুক্তিযোদ্ধা বৈধ তালিকায় তাদের নাম না ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন, কয়েকজন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে বৈধতা পেয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ বলেন, ভারতীয় নাগরিক আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে লাল মুক্তিবার্তায় তালিকাভুক্ত ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করলেও এই মুক্তিযোদ্ধা বৈধতা পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য-সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, বৈধ কাগজপত্র ও যাচাই-বাছাই কমিটির সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কাজ সম্পন্ন করা হয়। বাতিল হয়ে যাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা ফলাফল ঘোষণার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ