গোদাগাড়ীতে স্কুলের পাশে তিনটি ইটভাটা ।। দূষিত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির মধ্যেই চলছে পাঠদান

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৭, ১১:০৩ অপরাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী



রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ গজের মধ্যে তিনটি ইটভাটা রয়েছে। আর এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দূষিত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির মধ্যেই পড়াশোনা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়টি থেকে ৫০ গজ দূরে দুইটি ইট ভাটা রয়েছে। আর চলতি বছর স্কুলের পাশে নতুন করে একটি ইটভাটা স্থাপিত হয়েছে। এরপর থেকেই ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার ফলজ গাছ ও জমির ফসল নষ্ট হতে থাকে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিশুরা দূষিত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২১০ জন। শ্রেণিকক্ষ রয়েছে তিনটি। শিক্ষক চারজন। শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে ভাঙা ঘরে ঠাসাঠাসি করে বসে ক্লাস করে শিক্ষার্থীরা। উপরে ছাপরা টিনের সঙ্গে ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বালিতে খরা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে বসে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা গাছের নীচে বসে ক্লাস করে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমাম হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শ্রেণি সঙ্কট রয়েই গেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইটভাটার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হলেও তা মেনে নিয়েই পাঠদান করছে শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট ও ইটভাটার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে না।
এ প্রসঙ্গে কাদিপুর গ্রামের উজ্জল হোসেন বলেন, ইটভাটা স্থাপনে এলাকাবাসী বিরোধিতা করে আসলেও তা বন্ধ হয় নি। বরং এই এলাকায় প্রতিবছর ইটভাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এলাকাবাসী। উজ্জল হোসেন আরো বলেন, ইট ভাটার দূষিত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গ্রামের আরো শিশু ও নারীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কাদিপুর গ্রামে প্রায় ৫ শতাধিক বাড়িঘর, হাজার হাজার ফলজ গাছ ও ফসলি জমি রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে ইটভাটাগুলোর লাইসেন্স নেই বলে জানা গেছে। এসব ইটভাটাগুলো কিভাবে চলছে তা এলাকাবাসী জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র আছে কিনা সে বিষয়ে কথা বলতে রাজী হন নি ইটভাটা মালিকরা। তারা জানান, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়ে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা স্থাপন বিষয়ে গোদাগাড়ী শিক্ষা অফিসার রাখী চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদফতরের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।