গোদাগাড়ীতে স্কুলে ক্লাস-পরীক্ষা জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক

আপডেট: মার্চ ১১, ২০২১, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

সরকার দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৩০ মার্চের পর স্কুল খুলতে পারে। এর জন্য জোর প্রস্তুতিও চলছে। স্কুল চত্বর ও ক্লাসরুম স্বাস্থ্যসম্মত করতে ইতোমধ্যেই নির্দেশনা আছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্কুলের শিক্ষকদের করোনা ভ্যাকসিন নেয়াও সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সরকারের এসব প্রস্তুৃতি ও নির্দেশনা উপক্ষা করে জেলার গোদাগাড়ীতে কিন্টা গার্টেনে রীতিমত চলছে ক্লাস ও পরীক্ষা। মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখলেও অন্য দরজা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ঢোকাতে দেখা গেছে। এছাড়া চলছে কোচিং বাণিজ্য। ব্যক্তি মালিকাকাধীন এই প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফি জোর করে আদায় করছে বলে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। শিশুদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা দেয়ার মত এই সংবাদ বেশ উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ৮ মার্চ বিকাল সাড়ে ৪ টায় উপজেলা সদর পশু হাসপাতাল রোডে গোদাগাড়ী সানরাইজ সেমি ইংলিশ মিডিয়াম ক্যাডেট স্কুল গিয়ে শিশুদের পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। স্কুলের পরিচালক ও শিক্ষক মিলে পরীক্ষার ডিউটি পালন করছেন। এসময় দেখা যায়, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসিয়ে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা শিক্ষকসহ একজনের মুখেও মাস্ক দেখা যায়নি।
অভিভাবক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাইরে থেকে যাতে বোঝা না যায় এ কারণে শিক্ষার্থীরা ব্যাগে করে লেখার জন্য হার্ড বোর্ড নিয়ে স্কুলে ঢোকে। আর পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র স্কুল পরিচালক নিয়ে নেন। করোনার শুরু থেকেই ওই স্কুলে গোপনে ক্লাস চালাচ্ছে। স্কুল পরিচালকেরও স্কুল খোলা রাখার প্রশ্নে আজব যুক্তি। তিনে বলেন, হাট-বাজার, দোকান-মার্কেট সবকিছুতো ঠিকই চলতেছে। আমাদের স্কুল খোলা থাকলে অসুবিধা কী? আর আমাদের এলাকায়তো কোনো করোনা রোগি নেই যে শিক্ষার্থীরা এখানে আসলে আক্রান্ত হবে। তবে অভিভাবকদের অনুরোধে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে।
সরকারের নিষেধাজ্ঞা যে পরিচালক একেবারেই আমলে নেন নি সেটা তার বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। বরং স্কুল খোলার ক্ষেত্রে যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন। এটা তার ধৃষ্টতারই সামিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবশ্য বলেছেন, ক্লাস অথবা কোচিং চলমান থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষয়টি তদন্ত করে ওই স্কুলের পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট আর যারা জড়িত আছেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ