গোদাগাড়ীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির পায়তারা, সম্প্রীতির নজির গড়লেন গ্রামবাসীর

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০২২, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

 

এ কে তোতা, গোদাগাড়ী:


রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সেচের পানি না পেয়ে দুইজনের আত্মহত্যার ঘটনায় কৃষকদের বিভক্তি করে সম্প্রীতি নষ্ট করতে তৎপর একটি স্বার্থন্বেষী মহল। গোদাগাড়ীতে দুই কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিয়ে সেচ পাম্প অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনকে বাঁচাতে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে কৃষকদের ধর্ম ও জাতিগত বিষয়টি সামনে এনে বিভাজনের চেষ্টা চালায়।

কিন্তু গ্রামের মানুষ ওই অপতৎপরতা বানচাল করে দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দুই কুষক আত্মহত্যা করেছেন, তাদেরকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা করা হয়েছে। ধর্ম ও জাতিগত বিভেদ সৃষ্টি করে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্ররোচনায় আত্মহননকারীরা এবং আমাদের মতই কৃষকÑসেটিই তাদের সর্বোচ্চ পরিচয়।

উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ উপজেলা দেওপাড়া ইউনিয়নের ইশ্বরীপুর নিমঘুটু গ্রামের অভিনাথ মার্ডি ও রবি মার্ডি নামের দুইজন কৃষক সেচের পানি না পেয়ে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় সেচ পাম্প (গভীর নলকূপ) অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।

সময় মত না পারায় জমির ধান মরতে দেখে ক্ষোভে আত্মহত্যার ঘটনার পর দলমত নির্বিশেষে ইশ্বরীপুরের কৃষকরা সেচ পাম্প অপারেটরের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়। তখনই ওই জনপ্রতিনিধি ইশ্বরীপুর এলাকায় গিয়ে মুসলিম কৃষকদের বলে যে, দুই কৃষক মারা গেছে তারা আদিবাসী ও সনাতন ধর্মের। তাদের দাবি অনুযায়ী সেচ পাম্প অপারেটরের কিছু হলে তোমরাও (মুসলিম কৃষক) ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ক্ষেত্রে মুসলিম কৃষকদের সেচ পাম্পের অপাটেরের পক্ষ নিয়ে থাকতে হবে।

এসময় মুসলিম কৃষকরা জনপ্রতিনিধির সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির কথার প্রতিবাদ জানিয়ে সেচ পাম্পের অপারেটরের বিচার দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেচ পাম্প অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন কমিশনের টাকা নিয়ে কৃষকদের তার ইচ্ছামত সেচ দিয়ে থাকে। এই সেচ পাম্প অপারেটর সেচ নিয়ে কৃষকদের হয়রানি শোষণ-নির্যাতন করলে কৃষকরা প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু অপারেটরের পক্ষে জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে একটি মহলের হস্তক্ষেপে কৃষকরা সময় মত জমিতে সেচ দিতে পারে না।

ইশ্বরী গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান সেন্টু বলেন, আমরা সবাই কৃষক হিসাবে সম্প্রীতির সঙ্গে চলাচল করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। এ সম্প্রীতি কেউ নষ্ট করতে পারবে না। ইশ্বরীপুর গ্রামের আরেক কৃষক মুনসুর রহমান বলেন, নিহত অভিনাথ মার্ডি ও রবি মার্ডির বড় পরিচয় হচ্ছে কৃষক।

এবং তারা সেচ পাম্পের অপারেটরের স্বেচ্চারিতার প্রতিবাদে আত্মহুতি দিয়ে প্রমাণ করেছেন সব কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ইশ্বরীপুর গ্রামের কৃষক বাপ্পি মার্ডি বলেন, ইশ্বরীপুরের কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে সেচ পাম্প অপারেটরের শাস্তি ও সময়মত জমিতে সেচের পানি নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলন করছে।

এই কৃষক অবিলম্বে অভিযুক্ত সেচ পাম্প অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনকে আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। গোদাগাড়ী মডেল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, দুইজন কৃষক আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে সাখাওয়াত হোসেন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তাকে আটক করতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ