গোদাগাড়ীর পাকড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি

আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৭, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৩ নম্বর পাকড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ১২ ইউপি সদস্য। গতকাল মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের ১২ ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত অভিযোগটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো ১২ ইউপি সদস্যের স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবদুর রাকিব সরকার। এ যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদে করসহ বিভিন্ন খাত থেকে ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করে। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলে আয়কৃত টাকা জমা না করে পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার সব টাকা আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভায় ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যান ও সচিব মনিরুজ্জামানের কাছে হিসাব চাই। কিন্তু সঠিক হিসাব না দিয়ে পরের মাসিক সভায় হিসাব দেয়ার কথা বলে সভা সমাপ্ত করেন চেয়ারম্যান। পরবর্তী মাসিক সভায় ইউপি সদস্যরা আবারো হিসাব নিকাশ জানতে চান। সর্বশেষ গত জুন মাসিক সভায় ইউপি সদস্যরা সভার শুরুতেই চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করতে বললে চেয়ারম্যান হিসাব দিতে টালবাহানা করেন। এই নিয়ে ইউপি সদস্যদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বাক বিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পরিষদের ফাইল এবং কাগজপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ এনে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় পাঁচ জন ইউপি সদস্যকে আসামি করা হয়। এই মামলায় গত সোমবার রাজশাহী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালত পাঁচ ইউপি সদস্যকে জামিন প্রদান করেন। গতকাল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান, ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম, জেবুন নেসা, জালাল উদ্দীন, লুৎফন নেসা, সারেফা খাতুন সাগরী, গোলাম রব্বানী, আবদুল মান্নানসহ ১২ ইউপি সদস্য স্বাক্ষরিত অভিযোগটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প চেয়ারম্যান তার পছন্দের লোকজন নিয়ে বাস্তবায়ন করেন। এতে করে প্রকল্পের কাজ পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন হয় না। ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাকিব সরকার ইউনিয়নের ভোটার হলেও বসবাস করেন কাকনহাট পৌরসভায়। এজন্য ইউনিয়নের উন্নয়নের দিকে নজর না দিয়ে লুটপাটে ব্যস্ত থাকেন। ইউনিয়ন পরিষদে ঠিকমতো আসেন না চেয়ারম্যান। ফলে লোকজন কাজে এসে হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে যায়।
তবে পাকাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাকিব সরকার তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইউপি সদস্যরা তার কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে (ইউপি চেয়ারম্যান) মিথ্যা অভিযোগ তুলে ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, মাঝে মধ্যেই ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে দন্দ দেখা দেয়। এজন্য ৪০ দিনের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে বিঘœ ঘটে। বিষয়টিতে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ