গোদাগাড়ী ও ঈশ্বরদীতে আরও প্রায় ৩৯ হাজার লিটার সয়াবিন জব্দ

আপডেট: মে ১০, ২০২২, ১১:০৩ অপরাহ্ণ

গোদাগাড়ী ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বগদামারিতে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১০১ ব্যারেল সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ী মাজদার আলীকে আটক করা হয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জানে আলম অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (১০ মে) রাত ৮ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোদাগাড়ী উপজেলার বিদিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী মাজদার আলী অন্য এলাকায় বগদামারিতে একটি গোডাউনে মজুদকৃত সয়াবিন তেল উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই গোডাউন ১০১ ব্যারেল সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। যেখানে ২০ হাজার ৬০৪ লিটার সয়াবিন রয়েছে। এই তেলগুলো জব্দ করে গোডাউন সীল করে দেওয়া হয়।

এদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি সয়াবিন তেলের গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুরে ঈশ্বরদী বাজারের শ্যামল স্টোরের গোডাউনে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সে সময় ১০ হাজার লিটার খোলা সয়াবিন তেল, ১২৪৪ লিটার বোতলজাত তেল ও ৭ হাজার লিটার সরিষার তেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অভিযান দলের সদস্যরা বলেন, ইদের আগে এসব ভোজ্য তেল সংগ্রহ করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় নিজের গুদামে অবৈধভাবে মজুত করেছিলেন শ্যামল স্টোরের মালিক শ্যামল দত্ত পাল নামের ওই ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের নূরমহল্লা এলাকার মাতৃমন্দিরের সামনে শ্যামল পালের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জহিুরুল ইসলাম। সে সময় ঈশ্বরদীর নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সানোয়ার রহমানসহ ঈশ্বরদী থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন।

বিপুল পরিমাণ সোয়াবিন তেলের অবৈধ মজুদ রাখা ও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপরাধে ব্যবসায়ী শ্যামল দত্ত পালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও জব্দকৃত ভোজ্য তেল জনসম্মুখে ঈদের পূর্বের দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার নির্দেশ দেন পাবনা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জহিুরুল ইসলাম।

এদিকে বিপুল পরিমাণ ভোজ্য তেল আটকের পর মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করায় উপস্থিত ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপস্থিত স্বপন, মহসীন ও মিন্টু নামের একাধিক ভুক্তভোগী ক্রেতা অভিযোগ করেন, শ্যামল পালের গোডাউন মালামাল জব্দ ও গোডাউন সিলগালা করা উচিত ছিল। এতবড় অপরাধ করে মাত্র ২০ হাজার টাকায় পার পেয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুরু পাপে লঘু দন্ড” পেল শ্যামল পাল।

সূত্র আরও জানায়, ঈশ্বরদীতে শ্যামল পালের মতো আরো বেশ কয়েকজন তেল মজুদদার ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা দরকার। অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ