গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক ও ওষুধ সঙ্কটে চিকিৎসা সেবা ব্যহত || ১৫ বছর ধরে পরীক্ষার যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি


গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা হাসপাতাল-সোনার দেশ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসক ও ওষুধের সঙ্কটে ব্যহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। সেইসঙ্গে ১৫ বছর ধরে এক্স-রে, ইজিজি, কম্প্রেসার, ডেন্টাল কেয়ারসহ আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ডায়াগস্টের যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দী রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালে আগত রোগিরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে উপজেলা সদরে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালাউদ্দীন ইউসুফ। হাসপাতাল চালুর শুরুতেই ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়। হাসপতাালে দেয়া হয় আল্ট্রাসনিক ও ডায়াগনস্টিকের যন্ত্রপাতি। সরবরাহ করা হয় পর্যাপ্ত পরিমানে ওষুধ ও রোগিদের খাবার। কিন্তু কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা অনত্র বদলি হয়ে গেলে এসব পদ শূন্য রয়ে যায়।
সূত্রটি আরো জানায়, গত ১০ বছর ধরে চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধ সরবরাহ চাহিদা অনুযায়ী হচ্ছে না। বর্তমানে ১৩টি পদের স্থলে মাত্র পাঁচ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কর্মরত রয়েছে। প্রতিদিন আউটডোরে ১৫০ থেকে ২শ পর্যন্ত রোগি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। মাত্র এক জন চিকিৎসক আউটডোরে বসে এসব রোগিদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।
হাসপাতালে ভর্তিকৃত কয়েকজন রোগি জানান, ওষুধ এবং সার্জারির যন্ত্রপাতি তাদেরকে বাইরে থেকে ক্রয় করতে হয়। হাসপাতালে যে খাবার দেয়া হয় তা এটতাই নি¤্নমানের যে রোগিরা তা খেতে পারে। বাধ্য হয়ে বাড়ি কিংবা হোটেল থেকে খাবার নিয়ে এসে খেতে হয়। চারজন সুইপারের জায়গায় একজন সুইপার থাকার কারণে গোটা হাসপাতলই অপরিচ্ছন্ন থাকে। ওয়ার্ডগুলিতে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এদিকে টেকনিশিয়ানের অভাবে হাসপাতালে এক্স-রে, ইজিজি, কম্প্রেসার, ডেন্টাল কেয়ারসহ আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ডায়াগনস্টিকের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে বাক্সবন্দী অবস্থায় থাকায় এসব যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চেম্বারে বসে আবাসিক মেডিকেল অফিসার রোগিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু এক জন চিকিৎসকের কারণে রোগিদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময় ধরে। হাসপাতালে আগত রোগিদের মধ্যে শিশু ও নারীদের সংখ্যা বেশি। রোগিরা জানান, হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেয়া হয় না। তবে শুধুমাত্র প্যারাসিটামাল ওষুধ রোগিদের সরবরাহ করা হয়। অনেক দরিদ্র রোগি চিকিৎসাপত্র পেলেও অর্থ অভাবে বাইরে থেকে ওষুধ ক্রয় করতে পারে না।
এ বিষয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অহেদা খাতুন বলেন, প্রতি মাসে যে পরিমাণ ওষুধ দেয়া হয় তা চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় অল্পদিনেই ওষুধ শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে কর্মরত পাঁচ জন চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে হাসপাতালে ডিউটি করছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ