গোমস্তাপুরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানের জীবিকার অবলম্বন কলসে, তবলা ও গান

আপডেট: মে ৩১, ২০২১, ১১:০২ অপরাহ্ণ

আল-মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর:


জীবন মানে যুদ্ধ। প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে মানুষকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। এমনি এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গোমস্তাপুর উপজেলায় মিজানুর রহমান মিজান। পরিবারকে দু’মুঠো ভাত জোগাড়ে পথে-ঘাটে, বাজারে গান করে মানুষকে আনন্দ দিয়ে থাকেন। তিনি দুই পায়ে কলসকে রেখে বাদ্যযন্ত্র করে গান করে থাকেন। তার কন্ঠের গান শুনে দর্শক খুশি হয়ে যা দেয় সেটা পেয়ে কোনমতে তার সংসার চলে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান মিজান (৩৫)।
এ বিষয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজান জানান, জন্ম থেকে তিনি দৃষ্টিভঙ্গি। তার সংসারে স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। অভাবি সংসার তার। তার দেখার কেউ নাই। হাটে-বাজারে গান করে যে টাকা পায় তা দিয়েই তার সংসার চলে।
তিনি বলেন, হাটে-বাজারে গান করে দর্শকের কাছে যে টাকা পায় তা দিয়ে আমার সংসার চলে। তার দুই ছেলে ও একটি মেয়ে। বড় ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে, একমাত্র মেয়ে ৩য় শ্রেনিতে ও ৫ বছরের একটি ছোট ছেলে রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের চাওয়া-পাওয়া কখনও পূরণ করা সম্ভব হয়না এ রোজগারের টাকা দিয়ে। পাড়া প্রতিবেশিদের মাঝে সহযোগিতা করে থাকে। অনেক সময় এগিয়ে আসেনা।
তিনি বলেন, কি করবো! মহান আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী করে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সবার সাথে মিলেমিশে চলাফেরা করি। যেহেতু তিনি দুটি চোখে দেখতে পায় না এইসব গান কেমন করে আয়ত্ত করেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তার দুইটা চোখের দৃষ্টি না দিলেও, যেকোন গান ১ থেকে ২ বার শুনার পর আয়ত্ব করে থাকি। আর ওই গান জনগণের মাঝে পরিবেশন করে থাকি।
মিজান এখন পর্যন্ত ২০০-২৫০টি গান গাইতে পারে। গানগুলো বিভিন্ন সময় বাস ও যানবাহনে গেয়ে থাকেন। তাছাড়া রহনপুর, সোনাইচন্ডী, নাচোল, কানসাট, খাসেরহাট ও মনাকষাসহ দেশের অন্যান্য হাটবাজারে টাকা উপার্জনের জন্য গান করতে যায় এবং জেলার বাইরেও কুয়াকাটা, যশোরের দর্শনাতে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে গান করেছেন। তিনি স্থানীয় এফএম রেডিও মহানন্দাতে গান করেছেন।
মিজান বলেন, করোনাকালীন তার পরিবার খুব কষ্টে দিনযাপন করছে। দেখার মত কেউ নেই। সরকার কর্তৃক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাতা মাসিক ৭০০ টাকা করে পেয়ে থাকে। তার এক সময় স্বপ্ন ছিল বড় শিল্পি হওয়ার। বর্তমানে অভাব অনটনের সংসারে চালানোই দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কেউ যদি তাকে সহায়তা করত তাহলে এলাকায় একটি দোকান দিয়ে পরিবারের মুখে দুই মুঠো ভাত তুলে দেয়াসহ ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতেন।
চৌডালা বাজার এলাকার কয়েজজন মাইনুল ইসলাম মিজান সর্ম্পকে বলেন, সে খুব সুন্দর সুন্দর গান শোনায়। কেমন করে এসব গান আয়ত্ত করে এ প্রশ্ন জনসাধারণের মনে জাগে? মিজান বলে যে গান একবার সে শোনে সে গান নাকি তাকে আর দ্বিতীয়বার শুনা লাগেনা। তার কন্ঠটাও খুব সুন্দর তাই দর্শকরা মনোযোগ দিয়ে তার গান শুনে থাকেন। তার গানে খুশি হয়ে অনেকেই বকশিস দিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, মিজানুর রহমান একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তার একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড আছে। তার একটা কর্মসংস্থানের করে দেয়া যায় সে ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদ চিন্তা করছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মিজানের কর্মজীবন বিষয়ে অবগত আছি। উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে পরবর্তীতে সহায়তা করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ