গোমস্তাপুরে পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। এর মধ্যে তদন্ত কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নতুন সংযোগ স্থাপনের নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও ট্রান্সফরমার পুনরায় স্থাপনের জন্য নাচোল পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলামের কাছে ২৫ হাজার ঘুষ গ্রহণ করেন তিনি। যার অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে উত্থাপন করা হয়। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে জরিমানার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজ পকেটে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গোমস্তাপুর ইউনিয়নের অভিমান্যপুর মৌজার মন্ডল অটোরাইস মিলে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে সিস্টেমলস মেকাপের নামে সাধারণ গ্রাহকদের মাথার ওপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, গ্রাহকদের কাছে থ্রি-ফেজ মিটার প্রদানের জন্য হাজার হাজার টাকা নেয়া হয়। অন্যদিকে অনেক গ্রাহকের এ্যানালগ মিটার থাকলেও তা পরিবর্তন না করে কমবিল দেখানো হয়। স্টোর থেকে নানা বিদ্যুৎ সামগ্রী স্টোর কিপার জাহাঙ্গীর ও নিরাপত্তা প্রহরী কাউসারের সহযোগিতায় অন্যত্র বিক্রি করা, এছাড়াও লেজার কিপার বাবলুর সহায়তায় বিভিন্ন জায়গায় মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল না তৈরী করে এস্টিমেটেড বিল প্রদান।  এর আগে পোল ও এলটি লাইন সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ হলেও প্রকল্প এলাকায় কাজ না করে অন্যত্র কাজ করার একটি অভিযোগ স্থানীয় সাংসদকে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তার পূর্বের কর্মস্থল লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া বাবদ ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ টাকার স্থলে ১৮ হাজার ৯০৯ টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে দিলে কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে। তদন্ত কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একটি মহল আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এসব অভিযোগ করছে বলে জানান তিনি।