গোমস্তাপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে আনন্দে আছেন উপকারভোগীরা

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

মো. সাজেদুল হক সাজু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে ভাগোলপুর দখিনা পুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে সুখ ফিরেছে এর বাসিন্দাদের।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বাসিন্দাদের কেউ বসবাস করতেন রেলস্টেশন বস্তিতে, কেউ অন্যের জায়গায় বা সরকারি খাসজমিতে। তাদের ছিল না কোনো স্থায়ী ঠিকানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ এর ঘর পেয়ে তারা এখন স্বাচ্ছন্দেই বসবাস করছেন উপহারের বাড়িতে। বসবাসের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে কেউ করছেন সবজি চাষ, কেউ করছেন হাঁস-মুরগি পালন, কেউ করছেন ছাগল ভেড়া পালন।
ভাগোলপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, মাথাগোঁজার নিজস্ব ঠিকানা পেয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি বদলে ফেলছেন জীবনের পথ। এই ঘর অনেকেরই জীবন পাল্টে দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘর পেয়েছেন প্রথম পর্যায়ে ১৩১৯, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৬১৯, তৃতীয় পর্যায়ে ৬৫১ এবং চতুর্থ পর্যায়ে ২৩০টি ঘরের কাজ চলমান রয়েছে।
ভাগোলপুর দখিনা পুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞ উপকারভোগী হানিফ উদ্দিনের স্ত্রী উম্মে হাবিবা সুলতানা, তপন কর্মকারের স্ত্রী অলকা রানী জানান, আমরা দুই বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে এখানে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পেরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিশেষভাবে ঋণী। আমরা আগে রেলস্টেশনের বস্তিতে থাকতাম যেখানে কোন জীবনের নিরাপত্তা ছিল না। তাছাড়া বাড়িতে কোন বিদ্যুৎ ছিল না। যে কোন সময় উচ্ছেদ অভিযানের ভয়ে দিন কাটাতাম। কিন্তু আমরা এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ণের প্রকল্পের ঘর পেয়ে বসবাস করছি। বসবাসের পাশাপাশি কেউ হাঁস-মুরগি চাষ, কেউ ছাগল ভেড়া পালন, বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছি। আমাদের স্বামীরাও তাদের কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উপহারের ঘর পেয়ে তার জন্য সব সময় দোয়া করি।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসমা খাতুন জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে এরকম একটি মহৎ কাজের সাথে আমাদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফেজের উপকারভোগীদের নিয়মিত খোঁজ রাখি আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে তাদের বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইদ ও পূজাসহ বিভিন্ন দিবসে আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসাররা উপকারভোগীরা যাতে গবাদি পশু হাঁস মুরগি ছাগল ভেড়া পালন করতে কোন সমস্যায় না পড়ে এ জন্য তাদের সহায়তা করছে।
জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভূমিহীন-গৃহহীন-ছিন্নমূল মানুষকে অন্তর্ভুক্তমূলক উন্নয়নের আওতায় এনেছেন। সমাজের অনগ্রসর পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীকে ২ শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা একক ঘর প্রদান করা হচ্ছে। জমিসহ ঘরের মালিকানা পেয়ে তারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত করেছেন। ফলে এসব পিছিয়েপড়া মানুষের জীবনমান উন্নততর হচ্ছে। উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্ত করা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে আশ্রয়ণের বাড়ি ও জমির মালিকানা স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেয়া হচ্ছে। পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যদের উৎপাদনমুখী নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ সঞ্চয়ী হতেও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
রহনপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ভাগোলপুর দখিনা পুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে উপকারভোগীরা এখন সেখানে নিজস্ব ঘরে বসবাস করছেন। আমি সরেজমিনে গিয়ে উপকারভোগীদের সাথে কথা বলেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে তারা সবাই খুশি। তাদের প্রাপ্ত ঘরের বাইরেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় পতিত জমিতে কেউ করছেন হাঁস মুরগি চাষ, কেউ ছাগল পালন, বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষসহ বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদ করছে। আমরা তাদের বিশুদ্ধ পানি খাওয়ার ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশনসহ বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করেই যাচ্ছি যা আগামীতে অব্যাহত থাকবে।