গোমস্তাপুরে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় থানায় গৃহবধূর অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০২২, ১০:২০ অপরাহ্ণ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি :


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছে মোহতাসিনা ওরফে লতা নামে এক গৃহবধূ।

গত শনিবার (০১ অক্টোবর)রাতে রাধানগর ইউনিয়নের নগরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধু রোববার (০২ অক্টোবর) রাতে রাধানগর ইউনিয়নের জশৈল গ্রামের রাকিব (২২), মতিন (৪৫), মিলন (৩০) তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জনকে আসামি করে গোমস্তাপুর থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে ওই এলাকায় বিলে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ইজারদার ও জেলের দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামীরা ওই গৃহবধূর বাড়িতে এসে তাঁর পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করে। সেইসাথে পরিবারের সদস্যদের হাঁসুয়া দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাঁরা লাঠি লাদনা দিয়ে তাঁদের বসতবাড়ির কাঠ ও টিনের নির্মিত দরজা ও জানালা ভাঙচুর করে। ওই সময় তিনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে যান ওই বাড়িতে। দুষ্কৃতিকারী হিসেবে রাকিব ও মতিনকে ধরে ফেলেন তাঁরা । পরে গোমস্তাপুর থানা পুলিশের কাছে ওই দু’জনকে সোপর্দ করেন।

প্রতিবেশী সাবানা জানান, ওইদিন রাতে তিনি কান্না ও চিৎকারের শব্দ শুনে বাড়ি থেকে বের হন। বের হয়ে দেখেন লতার বাড়িতে ধামধাম শব্দ হচ্ছে। ওই সময় তিনি অনেকের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দেখেছেন। পরে এলাকার লোকজন ছুটে আসলে তাঁরা পালিয়ে যান।

জামাল নামে আরেকজন বলেন, জশৈল গ্রামের লোকজন ও জেলেরা অন্যগ্রামে এসে আক্রমন করবে বাড়ি ভাংচুর ও অকথ্য ভাষায় গালি দিবে এটা ঠিক না। জেলেদের একত্রিত থাকাটা একটি পক্ষকে মেনে নিতে না পারায় অন্যদের দিয়ে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

জেলেদের নেতা দুরুল জানান, ইজারাদাররা জেলেদের নৌকা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিতেন। আমরা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সংগঠন করেছি। এ চাঁদাবাজি বন্দ করার জন্য সঞ্চয় জোগাড় করি। সেটা একটি ব্যাংকে জমা করে রাখা হয়। ইজারাদার পক্ষের কিছু জেলে সংগঠনটি বানচাল করে ভাঙ্গা ও আগের চাঁদা চালু করতে পারে সেজন্য এ কর্মকান্ডে লিপ্ত। এ কারণে নগরপাড়ায় রাতের আধারে অতর্কিত হামলা চালায় তাঁরা।

মামলার বাদি মোহতাসিনা লতা বলেন, তিনি ও তাঁর পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তায় ভুগছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।

ওইদিন রাতের ঘটনার পর গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমাস আলী সরকার বলেন, এ ঘটনায় একটি পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ