গোমস্তাপুরে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকোয় ভরসা

আপডেট: মে ২৬, ২০২১, ৯:২২ অপরাহ্ণ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি:


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার শেষ সীমান্ত ঈশ্বরপুরগঞ্জ ও নওগাঁর পোরশা উপজেলার আংশিক এলাকায় অবস্থিত বিশাল বিলাঞ্চল। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পর এই বিলাঞ্চলের শত শত একর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। চাষাবাদকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরপুরগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় কৃষিপণ্য ও কিছু খাবারে দোকান বসে। পরবর্তীতে ওই এলাকাটা ‘বিল কুজইন ঘাট’ নামে পরিচিত লাভ করে। এই বিলের মধ্য দিয়েই পুনর্ভবা নদী বয়ে গেছে। এ অঞ্চলে শুধুমাত্র বোরো চাষই হয়ে থাকে।
আবাদের প্রথম দিকে অনেক কৃষককে সাঁতার কেটে ওই ঘাট পার হতে হয়। আবার অনেকে মাছ ধরা নৌকা ডেকে পার হন। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে নদী ও বিলের পানি শুকিয়ে যাবার উপক্রম হলে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ওই ঘাটে চলাচলের জন্য বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেন। কিন্তু অস্থায়ী এই সাঁকোটি দিয়ে ধান পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অনেক সময় দুর্ঘটনার মধ্যেও পড়তে হয়।
ওই এলাকার কৃষক সোলাইমান বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই এলাকার কৃষকগণ রমেশ্বপুর মৌজার বড় রমেশ্বর, কালিগুয়াল, গুমরোল ও জওবাড়িসহ পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের আংশিক জমির ধান বিলকুজইন ঘাট দিয়ে বহন করে নিয়ে আসে। ঝুঁকি নিয়েই বাঁশ ও কাঠের তৈরি এ সাঁকো দিয়ে ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে মাঠ থেকে ধান নিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ওই বিলাঞ্চলের মাঠের রমেশ্বর মৌজায় তার ৩০ বিঘা জমি রয়েছে। সে জমির ধান আনতে অনেক কষ্ট হয়।
সোলাইমান জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও জেলা প্রশাসক বিলকুজাইন ঘাট পরিদর্শন করেন। সে সময় এলাকার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে ছোট একটি সেতু তৈরির আশ্বাস দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি।
রোকনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক মঞ্জুর হোসেন বলেন, ওই এলাকায় তার ৭ বিঘা জমি রয়েছে। বিলাঞ্চল হওয়ায় বছরে একবার মাত্র ফসল আবাদ হয়। আর এ জমির ধান ঘরে তুলতে অসুবিধা হয় শুধুমাত্র ছোট একটা সেতুর কারণে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাঘাট কাদা হয়ে যায়। ফলে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এমনকি কোন বাহনও পাওয়া যায় না। অনেক কষ্ট করে মাঠে থেকে ধান নিয়ে আসতে হয়। তিনি বলেন, অনেক সময় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাঠের তৈরি সাঁকোটি ডুবে যায়। ফলে নৌকা অথবা পানির মধ্যে মাথায় করে ধান নিয়ে আসতে হয় কৃষকদের। এতে কৃষকের দুর্দশা চরমে উঠে।
রাধানগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য এর আগে এলজিইডি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে। সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে সেতুটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
অপরদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, এর আগে জায়গাটিতে সেতু নির্মাণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই এলাকার মৌজাটি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। তাছাড়া সীমান্তের ৪ কিলোমিটারের ভেতরে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে। সে কারণে সেতুটি নির্মাণ করা যায়নি।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার কৃষকের দুর্ভোগের বিষয়টা অবগত আছি। ওই স্থানে ছোট সেতুটি নির্মাণের জন্য এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর সাথে দেখা করে ডিও লেটার দেয়া আছে। এলজিইডির একটি প্রতিনিধিদল ওই স্থানে পরিদর্শন করার কথা থাকলেও করোনাকালীন পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তারা দ্রুতই জায়গাটি পরিদর্শন করে সেতু নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।