গোমস্তাপুরে বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২১, ১০:১৫ অপরাহ্ণ

আল-মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর


চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার কৃষকরা কুয়াশা মাখা দিনে বোরো আবাদ চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। দীর্ঘদিন ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা এবং সম্প্রতি কয়েক বছর ধানের দাম অব্যাহত ভাল থাকায় এ মৌসুমে কৃষকের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ধানের চারা পরিচর্যা ও জমি প্রস্তুত করতে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছে উপজেলার কৃষকেরা। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ধানের কচি চারার সবুজ গালিচা, কোথাও কোথাও গভীর নলকূপ থেকে চলছে পানি সেচ, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে চলছে জমি চাষের কাজ, গরু-মহিষ দিয়ে চলছে মাঠ সমান করার কাজ। আবার বোরো ধানের রোপনের জন্য বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে ধানের চারা। শরীরে রয়েছে হালকা শীতের পোষাক, মাথায় গরম কাপর। কাজের মধ্যে রয়েছে ফুরফুরে মেজাজ। কেউ বা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন; কেউ জমির আইলে কোদাল মাড়ছে, কেউ জৈব সার দিতে ব্যস্ত,কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন। আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন, কেউ আবার বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে তা রোপন করছেন।
গত আমন মৌসুমে ধানের ভালো ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকদের এবার বোরো আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। বর্তমানের ন্যায় শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চলিত মৌসুমে বোর ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে উপজেলা কৃষি বিভাগ মনে করছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় ১৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর যে সব জাতের ধান রোপন করা হচ্ছে, উফসী জাতের বোরো ধান ১৩ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ব্রিধান ২৮- ৮৫০ হেক্টর, ব্রিধান ২৯-৭০০ হেক্টর, ব্রি ধান ৩৬-২৫০০ হেক্টর, ব্রিধান ৪৮-৪৫০ হেক্টর, ব্রি ধান ৫০-৩৫০ হেক্টর,ব্রিধান ৫৫-১৫০ হেক্টর, ব্রিধান ৫৮-১৮১০ হেক্টর, ব্রিধান ৮১-৩১৫০ হেক্টর, ব্রিধান ৮৪-৭৫ হেক্টর, ব্রিধান ৮৬-১০৫ হেক্টর ব্রিধান ৮৮-৩০ হেক্টর, ব্রিধান ৮৯-১৫ হেক্টর, জিরা-৩৮১০ হেক্টর জমিতে । হাইব্রিড জাতের ধান ১ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এসএলএইটএইচ-৪৭০ হেক্টর, ইস্পাহানি ২-৩০৫ হেক্টর, এসিআই সেরা-২৫০ হেক্টর,টিয়া-৫০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলার বাঙ্গগাবাড়ি ইউনিয়নের চাষি শামসুদ্দিন বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। গত আমন চাষবাদ করে লাভবান হয়েছি। এবারও সে আশায় ৬ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ শুরু করেছি।
গোমস্তাপুর ইউনিয়নের নয়াদিয়াড়ী গ্রামের কৃষক মোবারক হোসেন জানান,গত আমন মৌসুমে ব্রি-জাতের ব্রি -৮১, জিরাশাইল ধানের ফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমে আবাদ করতে আমরা বেশি আগ্রহী। আমার জমিতে এখন শরিষা আছে। কয়েকদিনের মধ্যে আমি জমিতে বোরো ধান রোপন করবো।
ধান রোপনের শ্রমিক গানু আলী জানান, গত বছর করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত হয়ে আছি, বাইরে কাজে যেতে না পাড়া এবং এলাকায় তেমন কোন কাজ না থাকায় পরিবারের মধ্যে অভাব অনটনের মধ্যে পড়ে গেছি , বোরো মৌসুমে সকালে কুয়াশা ও ঠান্ডার পরিমাণ বেশি হলেও বোরো ধান লাগাতে একটু কষ্ট হচ্ছে ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, বোরো মৌসুমে এবার বীজ তলায় তেমন ক্ষতি লক্ষ্য করা যায় নি। বীজতলার চারার ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য বীজতলার উপর সকাল সন্ধ্যায় পলিথিন দিয়ে রাখা, দড়ি দিয়ে শিশির ভাঙ্গা, বীজতলা থেকে বীজ রোপনের পূর্বে বীজতলায় পানি রাখা, রোপনের সময় লাইন করে বোরো ধান রোপন করা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা মূলক সাধারণ কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ মাঠের জমিতে ধানের চারা রোপনের কাজ দ্রুত গতি শেষ করছে।