গোমস্তাপুর নতুন জাতের আম ‘রাধাসুন্দরী’

আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি


আমের রাজধানী হিসেবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে এক নতুন জাতের বারমাসি আমের সন্ধান পাওয়া গেছে। কৃষিবিদরা আমটির নাম দিয়েছে “রাধাসুন্দরী”। নিজ উদ্যোগে নতুন জাতের আমগাছ তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেয়া উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের খানপাড়া গ্রামের আম চাষী জাকির হোসেন খাঁনের বাড়ীতে গাছটি দেখতে প্রায় প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে লোকজন। এ সময় অন্য জাতের আম গাছে মুকুল বা আম না থাকলেও তার গাছে আম ধরছে থোকায় থোকায়। আম পাড়তে না পাড়তেই আবারো আসছে মুকুল। গাছগুলোর এ বৈশিষ্ট্য স্থায়ী হলে দেশে আম উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ আমগাছকে বারমাসি আমগাছ বলে ধারণা করছে স্থানীয় আমচাষীরা । আমগুলোর ওজন মাত্র ১ মাসেই ১ থেকে দেড় কেজি, গুটি ছোট, আঁশ বিহীন এ আম খেতে অনেকটা খিরসাপাত (হিমসাগর) আমের মত। আমটি আঁশবিহীন, প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ ভক্ষণযোগ্য এবং মিষ্টতা প্রায় ২৪/২৫ ভাগ বলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে।
আমচাষী জাকির হোসেন খাঁন জানান, গত ৩ বছর পূর্বে এক প্রতিবেশির বাগান থেকে আনা গুটিজাতের আমগাছের ডাল সংগ্রহ করেন এবং বাড়ীর  চত্ত্বরে  আ¤্রপলি গাছে তা সংযোজন করা হয় । কয়েক বছর পরে আকষ্মিক ভাবে মুকুল এসে নিয়মিতভাবে আম ধরা শুরু হয়। যা বছরে ৩ বার ভেঙ্গে খাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সময়ে ওই গাছেই পুনরায় ফজলি আমগাছের ডাল সংযোজন করা হয়। সেই থেকেই ফলছে বড় সাইজের সুস্বাদু এই আম। গাছটি থেকে এ পর্যন্ত ৩ বার আম সংগ্রহ  করা হয়েছে বলে আম চাষী জাকির হোসেন খাঁন জানান। ইতিমধ্যে আমের এই জাতটি নজর কেড়েছে স্থানীয়সহ জাতীয় কৃষি বিভাগের। সম্প্রতি পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ মেহেদী মাসুদ আমগাছটি পরিদর্শন করেছেন। এটি গবেষনার মাধ্যমে চাষী পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হার্টিকালচার সেন্টারের বিজ্ঞানীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ