গোমস্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে যত অনিয়ম দুনীর্তির অভিযোগ

আপডেট: September 20, 2020, 9:50 pm

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :


করোনাকালীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সারওয়ার জাহানের বিরুদ্ধে। আর এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্ত চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, বঞ্চিত সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য সহকারি, হাসপাতালের আরএমও এবং এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেন, করোনাকালে সিএইচসিপি ও স্বাস্থ্য সহকারিদের বরাদ্দের সুরক্ষা সামগ্রি লোপাট এবং করোনা রোগি ভর্তি না করেও হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন সারওয়ার জাহান।
সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাজারের ইউনুস আলী মাষ্টার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কোন সুরক্ষা সামগ্রি ছাড়াই করোনাকালে ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের টিকা প্রদান করছেন স্বাস্থ্য সহকারিরা। একই চিত্র কাজীহাটাসহ উপজেলার ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের।
এ বিষয়ে কাজীহাটা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সদস্য হাবিবা সুলতনা ও পীরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সদস্য রাকিব হোসেন জানান, করোনাকালে সরকারের দেওয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রি (বরাদ্দকৃত ৫ টি পিপিই, ১০ টি মাস্ক, ২০ টি গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার) চাওয়া হলেও তা দেননি ডা. সারওয়ার জাহান। উল্টো বলেন তাদের নামে কোনো সুরক্ষা সামগ্রি বরাদ্দ হয়নি। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন বরাদ্দকৃত এসব সুরক্ষা সামগ্রি হাসপাতালের ষ্টোররুমে না রেখে, সরকারি বাসভবনে রেখে লোপাট করেছেন তিনি।
এমন অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানান, বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিসটেন্ট ও উপজেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। উপজেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহম্মেদ রুশদি জানান, করোনাকালে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু জেলার অন্যান্য উপজেলা বরাদ্দকৃত সুরক্ষা সামগ্রি পেলেও তারা পাননি। এ বিষয়ে তারা ইউএইচএফপিও ডা. সারওয়ার জাহান, সিভিল সার্জন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত তা পাইনি।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিসটেন্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ জানান, সুরক্ষা সামগ্রি ছাড়াই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা কোন স্বাস্থ্য সামগ্রি পাননি। অথচ তারা জানতে পেরেছেন স্বাস্থ্যকর্মীদের নামে ঠিকই বরাদ্দ এসেছে। তাহলে এগুলো কি হলো? এমন প্রশ্ন রেখে এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের দাবি জানান তারা।
অভিযোগ পাওয়া যায়, মার্চ-এপ্রিল মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৬/৭ টি সেকশন, কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি এবং অনুদানকৃত পিপিই মিলিয়ে ৬০০ এর অধিক পিপিই লোপাট করেছেন ডাক্তার সারওয়ার জাহান। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ ওই সময় বাজারে পিপিই সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিটি পিপিই এর মূল্য নূন্যতম ২ হাজার টাকা করে ধরলেও তিনি ৬০০ পিপিই এর দরুণ ১২ লাখ টাকা এবং অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রি থেকে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া, হোম কোয়ারেন্টিনে সুস্থ হওয়া করোনা রোগিদের হাসপাতালে ভর্তি দেখিয়ে থোক বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)।