গ্যাস দুর্ঘটনা ও এর প্রতিকার

আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৭, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

ফারুক মো. আব্দুুল মুনিম


বাংলাদেশে প্রতিবছর দুর্ঘটনাজনিত কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। এর মধ্যে যেগুলো প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা যেমন: ঘুর্ণিঝড়, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ইত্যাদি এড়ানো বা বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে এগুলোর ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা পূর্ব প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে বহুলাংশে কমানো সম্ভব। তবে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্ঘটনা যেমন- পথ দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎ সৃষ্ট দুর্ঘটনা ইত্যাদি যথাযথ পূর্বপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করলে এড়ানো সম্ভব। দ্রুত নগরায়ন ও নাগরিক জীবনে নানা সুবিধা সৃষ্টি করতে গিয়ে নিত্যনতুন দুর্ঘটনার ক্ষেত্র তৈরি করছে। তেমনই একটি দুর্ঘটনা হচ্ছে গ্যাস দুর্ঘটনা। ইদানিংকালে এই দুর্ঘটনার ফলে বেশ কিছু মর্মান্তিক প্রাণহানি এবং বিপুল সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। যেহেতু জ¦ালানি হিসেবে গ্যাস এখন জনপ্রিয় ও অতিব প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে তাই এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এটি বন্ধ করা বা কমানো সম্ভব নয়। তবে যেটি করা দরকার তা হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ ও সাবধানতা অবলম্বন। এছাড়া এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো অতিব প্রয়োজন। গ্যাস ব্যবহার নিরাপদ করতে হলে এর দুটি দিকে নজর দিতে হবে। প্রথমত এর সরবরাহ ব্যবস্থা মানসম্মত হতে হবে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে পাইপ এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি যদি মানসম্পন্ন না হয় তাহলে উচ্চ চাপে সরবরাহকৃত গ্যাসের চাপ সহ্য করতে না পেরে সরবরাহ নেটওয়ার্ক বিস্ফোরিত হতে পারে। যেভাবে সম্প্রতি একটি রপ্তানিমূখি প্যাকেজিং কারখানা ভষ্মীভুত হয়েছে। আর সিলিন্ডারের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাসের ক্ষেত্রে সিলিন্ডার যথাযথ মানসম্মত হওয়া প্রয়োজন। সিলিন্ডার মানসম্মত না হওয়ায় প্রায়শই এলএনজি চালিত গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হচ্ছে। গ্যাস দুর্ঘটনার আর একটি কারণ হচ্ছে যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন না করা। সেক্ষেত্রে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে অবহেলা বা উদাসীনতা এর জন্য দায়ী। এলএনজি চালিত গাড়ি রিফুয়েলিং এর সময় গাড়ির সকল যাত্রীর গাড়ি থেকে নেমে নিরাপদ দুরত্বে থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রিফুয়েলিং এর সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে প্রাণহানি ঘটে। বাড়িতে সরবরাহকৃত গ্যাস ব্যবহারের সময় অধিক ক্ষেত্রে অনেক সময় যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করা হয় না। সম্প্রতি ঢাকায় এ ধরনের একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে গ্যাসের চাবি খোলা থাকায় রান্নাঘরে গ্যাস ছড়িয়েছিল এবং পরবর্তী দিনে চুুলা ধরাতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে পরিবারের প্রায় সবারই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। কাজেই প্রতিদিন ব্যবহারের পর সঞ্চালন ব্যবস্থা যথায ভাবে বন্ধ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। গ্যাস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সেফটি ক্যাপ লাগিয়ে রাখতে হবে।
দুর্ঘটনার সময় যে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে – এ সময় ইলেকট্রিক সামগ্রী বন্ধ বা চালু করা যাবে না। সব দরজা জানালা খুলে দিতে হবে। সকল ধরনের খোলা আগুন নিভিয়ে ফেলতে হবে। এবং সর্বোপরি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অথবা ফায়ার সার্ভিস অফিসে ফোন করে জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে সাবধানতা এবং পূর্ব সতর্কতা আমাদের জীবনকে নিরাপদ রাখতে পারে। একটু সাবধানতা অবলম্বন করলেই আমরা এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পারবো এবং মূূল্যবান জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারবো।
লেখক: সিনিয়র তথ্য অফিসার , আঞ্চলিক অফিস,রাজশাহী (পিআইডি ফিচার)