গ্রন্থালোচনা: মুক্তির পরম্পরা, বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতিপর্ব

আপডেট: জুলাই ৩, ২০২১, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

ড. মোস্তাফিজুর রহমান:


মুক্তির পরম্পরা, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রেক্ষাপট ও প্রস্তুতিপর্ব অধ্যাপক আবুল কাসেমের বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের ক্ষেত্রে যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছে তারই গবেষণা নির্ভর সংক্ষিপ্ত দলিল। একশত একান্ন পৃষ্ঠার সীমাবদ্ধ পরিসরে বাঙালি জাতির চেতনার বিকাশ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র কাঠামোর সকল যন্ত্র যেমনভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তার ধারাবাহিক চিত্র প্রস্ফূটিত হয়েছে তথ্য ও উপাত্ত সহকারে। বাঙালির মুক্তি অর্জনে যে বিষয়গুলো বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর পরিসরে কাজ করেছে তার যৌক্তিক ভীত দিয়ে তৈরি হয়েছে এই বইয়ের অভ্যন্তরে নিহিত গবেষণা নিবন্ধগুলোতে। লেখক বাঙালি জাতির রাষ্ট্র গঠনে তীব্র বেদনা, সংগ্রামের পর্ব ও হৃদয়ের আর্তিকে বুদ্ধিমত্তার সাথে সংক্ষিপ্ত করে তিন পর্বের ছকে বেঁধেছেন। আজীবন গবেষক লেখক তার নিপূন হাতে তিন পর্বের পরিসরে ছয়টি গবেষণা নিবন্ধগুলোতে বাঙালির মানস গঠন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রাপ্তি পর্যন্ত তথ্য উপাত্তের আলোকে দক্ষতার সাথে বিশ্লেষিত করেছেন। বাঙালি জাতির চেতনার ব্যাপ্তি, মুক্তি আকাক্সক্ষা, চেতনার বিকাশ, বাঙালি সত্তা ও সংস্কৃতির উন্মেষ ও অসাম্প্রদায়িক শক্তির সফল উন্মেষের কারণ খুঁজে বের করে পাঠকের দরবারে হাজির করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় ভাবাদর্শ মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তি সংগ্রামের বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত শব্দগুলো শুনলেও তার বুৎপত্তিগত অর্থ ও কার্যকরী দিক নিয়ে খুব কম ভেবেছি। এখানে প্রথম পর্বে সূচনা নিবন্ধে তথ্য নির্দেশনাসহ নির্মল ব্যাখ্যায় শুভ্রতা এসেছে। প্রারম্ভিক নিবন্ধে ভাষা আন্দোলন তিনটি পর্যায়ে বিশ্লেষিত হয়েছে যেখানে গবেষক গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বাঙালির হৃদ স্পন্দনকে দেখেছেন এভাবে, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রায় সকল উপাদানই ভাষা আন্দোলনের মধ্যে উপ্ত ছিল। গণতান্ত্রিক চেতনা, জাতিসত্তাবোধ, অসাম্প্রদায়িক মানস এগুলো সবই ভাষা আন্দোলন থেকে উৎসারিত’ (মুক্তি পরম্পরা, পৃ. ১৯)। ধর্মের ফানুসে মোড়ানো অলীক সংস্কৃতি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার বৈপরীত্যে একেবারে নির্ভেজাল নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে ম-িত বাঙালির সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন গ্রোথিত হয়েছিল তার ঐক্যবদ্ধ রূপ প্রকাশ পেয়েছিল ভাষা আন্দোলনে।
প্রথম পর্বের দ্বিতীয় নিবন্ধে ভাষা আন্দোলনের যৌক্তিক কার্যকারণ, মুসলমানদের পাকিস্তান আন্দোলনের অভিলাষ ও স্বপ্নভঙ্গ, পাকিস্তান রাষ্ট্রে মুসলমান শাসকদের বিতর্কিত ভূমিকা এবং ভাষা আন্দোলনে বুদ্ধিজীবী লেখকদের ভূমিকা উপজীব্য হয়েছে। লেখক দ্বিতীয় নিবন্ধে তিন জন লেখক বুদ্ধিজীবীর ভাষা-ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ সম্পর্কিত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক চেতনাকে উন্মোচিত করেছেন। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ‘ভাষা আন্দোলন থেকে ৬-দফা’ গবেষণা নিবন্ধটি বাঙালি জাতির সূক্ষ্ম ও নিবিড় বিষয় নিয়ে সন্নিবেশিত হয়েছে। লেখক পাকিস্তানিদের ঔপনিবেশিক চরিত্রের প্রকাশের কথা বলেছেন, বলেছেন বাঙালির রাজনৈতিক প্রথম ঐক্যতানের মহামিলনের কথা। এছাড়াও মুসলীম লীগ নামক দলটি- মৃত্যু ঘণ্টা, পূর্ববঙ্গে বসবাসকারি সকল মানুষের অসম্প্রদায়িক চেতনার উত্থান ও বিকাশ এবং বাংলার মুক্তিত্রাতা দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অবলম্বনে প্রগতিশীল রাজনীতির চর্চায় জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া। নিবন্ধের তথ্যসূত্রে লেখক আওয়ামী লীগের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সংবলিত ঘোষণাপত্র সংযোজন করেন। যাতে বলা হয়, ‘আধুনিক যুগে ধর্ম হলো সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক ব্যাপার এবং মানুষের প্রতি মানুষের কর্তব্য ধর্ম্মের আওতার বাইরে। বর্তমানে বস্তুজগত হতে সম্পর্কহীনভাবে ধর্ম্ম নিছক পারলৌকিক বিশ্বাস ও চিন্তা-ভাবনার ব্যাপার। ইহকাল রাষ্ট্রের উপর এবং পরকাল ধর্মের উপর ন্যাস্ত। ব্যক্তিজীবন স্রাষ্টার এবং সমাজ জীবন রাষ্ট্রের। ধর্ম্মের এরূপ ধারণা এবং অর্থই এখন বিশেষ প্রচলিত এবং সার্বজনীন।’ (মুক্তির পরম্পরা, পৃ. ৩৩)।
লেখক দ্বিতীয় পর্বের শিরোনাম ‘রাষ্ট্র সাধনায় রাজনৈতিক দল’ কে প্রথম নিবন্ধ ‘আওয়ামীলীগ: দলীয় ভাবাদর্শ থেকে রাষ্ট্রদর্শন’ সর্বাংশে অর্থদ্যোতনায় ও বিশ্লেষণে পূর্ণতা দিয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের দুই দশক পূর্বেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা, বাঙালির মুক্তি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অন্তর্দৃষ্টিতে হরহামেশায় দেখতেন। গবেষক প্রথম নিবন্ধে বলেছেন আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নীতি ও আদর্শ লালন ও প্রতিপালন করে ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করার সুযোগ পায়। এই দলীয় আদর্শ প্রচার ও প্রসারে বঙ্গবন্ধু ১৯৫৩ সাল থেকে প্রধান কান্ডারির ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে তিনিই সেই ভাবাদর্শ বাস্তবে রূপায়িত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব ভাবাদর্শই ১৯৭২ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্য দিয়ে বাস্তবরূপ লাভ করে।’ (মুক্তি পরম্পরা, প্র. ৫২)
অসাধারণ নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলীয় আদর্শের অন্তর্নিহিত দর্শনে রাষ্ট্রকে অন্তর্দৃষ্টিতে দেখা এবং সম্ভাব্য রাষ্ট্রের কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান ঠিক করার এক অভূতপুর্ব দক্ষতা ছিল বঙ্গবন্ধুর। এই নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সবক্ষেত্রে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের যা কিছু প্রয়োজন তা চুলচেরা নির্দেশনা ও পথ প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যারা বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব অর্থাৎ বাকশাল প্রণয়নকে অত্যন্ত নোংরাভাবে জাতির সামনে অপলাপের মাধ্যমে তুলে ধরেন তাদের মুখে সত্যের ঝান্ডা দিয়ে এ নিবন্ধে গবেষক বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সমাজতন্ত্রের ধারণার প্রয়োগক্ষেত্র ছিল বাকশাল তথা দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী। এই দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচীর আর্থ-সামাজিক দিকটি ছিল সুদূর প্রসারীভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্নে সৃজিত সমবায়ভিত্তিক বা যৌথ খামার ভিত্তিক কৃষি চাষ পদ্ধতি চালু করা হয়। ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ জীবনের শেষ জনসভায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মানুষের ঢলের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচির আর্থসামাজিক দিকটি তুলে ধরেন।’ (মুক্তির পরম্পরা, পৃ. ৬০)
এছাড়াও নিবন্ধের শেষ দুটি লাইনে গবেষক দলের আদর্শিক ভাবনাকে বিশ্লেষিত করে বলেছেন- ‘পাকিস্তান নামক সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের সরকার ও ক্ষমতাশীন দলের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে সুনির্দিষ্ট আদর্শকে ধারণ করে আওয়ামী লীগের যাত্রা। এ যাত্রায় গ্রহণ, বর্জন-পরিশীলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ তার আদর্শকে ক্রমান্বয়ে ক্ষুরধার করেছে এবং জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। এই আদর্শের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বলাবাহুল্য, এ আদর্শই স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রাদর্শের রূপলাভ করেছে। এ আদর্শিক অগ্রযাত্রার মহানায়ক ছিলে বঙ্গবন্ধু।’ (মুক্তির পরম্পরা, পৃ. ৬১)
দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় নিবন্ধে সারসংক্ষেপ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকে বুঝাতে সক্ষম হন যে, এ অঞ্চলের মানুষের সতত প্রবাহমান ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ফানুস ভেঙ্গে অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী হৃদস্পন্দন। এমতাবস্থায়, দ্বিতীয় নিবন্ধে গবেষকের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে আওয়ামী লীগের ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবনা ও তার কার্যকারিতা। তিনি বলেন, ‘বস্তুত ১৯৬০ এর দশকের শুরু থেকেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধারণার সাথে বাঙালির মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। তারা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থানের সময় থেকে পাকিস্তানি হিসেবে নয়, বরং বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, রাওয়ালপিন্ডর পরিবর্তে ঢাকায় আত্মানুসন্ধান করে এবং পদ্মা-মেঘনা-যমুনায় নিজের ঠিকানা ঘোষণা করে। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা হয়। এ অবস্থায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালিরা ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে। ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্র এর আদর্শগত ভিত্তি, সাংবিধানিক ঘোষণা সবই অতীতে পরিণত হয়।’ (মুক্তির পরম্পরা, পৃ. ৬৮)
নিবন্ধের শেষ অনুচ্ছেদে গবেষকের ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে থাকা কতিপয় বেইমানদের বেইমানির সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি। তারা কিভাবে সংবিধানের সর্বনাশসহ জাতিকে জঙ্গীবাদ ও উন্মাদনার দিকে ঠেলে দিয়ে নিজ স্বার্থকে চরিতার্থ করতে হয় সেটির বিশ্লেষনার্থক বর্ণনা দিয়েছেন।
গবেষণা প্রবন্ধের তৃতীয় পর্বের বুকে ধারণ করে ‘ছাত্র রাজনীতি ও জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম’ নামক শিরোনাম। এ পর্যায়ে যে নিবন্ধটি সংযোজিত হয়েছে তার শিরোনাম ‘বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন: প্রকৃতি ও পরিধি’ যেটি মুক্তির পরম্পরা বইটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। লেখকের পর্যবেক্ষনে উক্ত নিবন্ধের সূচনায় বলা হয়েছে, ‘১৯৬২ সালের আন্দোলনে পরিকল্পিত রাজনৈতিক শূন্যতা ভেঙ্গে গোটা পরিবেশকে চাঙ্গা করে তোলে। ছাত্ররা ছিলো এ আন্দোলনের অনুঘটক। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল এ দেশের রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত সামরিক শাসনকে আঘাত করা। তাই এ আন্দোলন ছিলো সরকারের প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির জন্য চক্ষু উন্মিলক। (মুক্তির পরম্পরা, পৃ. ৭৭)
লেখক নিপূন পারদর্শিতার সাথে নিবন্ধটিকে সাজিয়েছেন ভূমিকা ও উপসংহার বাদ দিয়ে ৭টি সেকশনে। তৎকালীন প্রেক্ষাপটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সেকশনগুলোর নাম এসেছে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, শিক্ষার অবস্থা, আন্দোলনের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রস্তুতি, সামরিক সরকারের রাজনৈতিক ভীতি, সোহরাওয়ার্দীর গ্রেফতার, আন্দোলনের প্রথম পর্যায়, ১৯৬২ সালের সংবিধানের বিরোধিতা, আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরোধিতা। তৃতীয় পর্যায়ে গবেষক উল্লেখ সূত্র থেকে উপসংহারে বলেছেন ১৯৬২ সালের আন্দোলনকে শুধু সংকীর্ণ অর্থে শিক্ষা আন্দোলন না বলে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতিগত নিপীড়ন ও শোষণের অবসানের আন্দোলন বলাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।’ (মুক্তির পরম্পরা, পৃ. ১০১)
দ্বিতীয় পর্বে সর্বশেষ নিবন্ধটি শিরোনাম ‘পঞ্চাশের দশকের পূর্ব বাংলার ছাত্র আন্দোলন’ কলেবরে দীর্ঘ নিবন্ধটি গবেষকের অনুসন্ধানী চোখে বিশ্লেষিত হয়ে সকল ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচি এবং তাদের জাতীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণকারী মূল দলের সাথে সম্পর্ক। এছাড়াও তৎকালীন ৫০ ও ৬০ দশকে রাজনীতির মূল স্রোতে জাতীয়তাবাদী চেতনার উত্তোরণ ও বিকাশের যে ভূমিকা রেখেছিলো তার সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ছাত্রসংগঠনগুলোর উত্থানের কারণ জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অবদান, বাঙালি জাতির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে তাদের অবস্থান গ্রহণ। সামাজিক, সাংষ্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় পরিম-লে সংগঠনগুলোর দায়বদ্ধতা সূচারুভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পাঠক এ পর্যায়ে গবেষণা নিবন্ধটি মন্ত্রমুগ্ধের মত হয়ে পড়বেন এবং মনে মনে তৎকালীন ছাত্রদের কাছে ঋণ স্বীকার করবেন। গবেষক প্রতিটি গবেষণা নিবন্ধের শেয়াংশে সহায়ক গ্রন্থসমূহ, তথ্য নির্দেশনা ও টীকা যথাযথভাবে সন্নিবেশিত করেছেন। বলা দরকার যে, অন্য কোন গবেষকের উদ্বৃতি অথবা ধারণা (Concept) সংযোজিত করা হলেও তা তথ্য নির্দেশনায় ও টীকায় উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও গবেষক তথ্য বিশ্লেষণে নির্মোহ থেকে সত্য উৎঘাটনে দক্ষতা ও মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে- কথা প্রকাশ।
গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম। ওই বিভাগের সভাপতি এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই গ্রন্থটি ছাড়াও তাঁর আরও একটি গবেষণা গ্রন্থ পাঠক মহলে সমাদৃত সেটি “বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও আওয়ামী লীগ: ঐতিহাসিক দলিল (২০০১)।