গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২৩, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

বিদ্যুৎ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করুন

তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক যুগে বিদ্যুৎ এখন মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। আর এই চাহিদা ও যোগান মানুষের প্রত্যাহিক জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। তবে সাধারণত গ্রীষ্মকালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকার কারণে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণাও বেড়ে যায়। যদিও দেশে বর্তমানে জাতীয় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের উৎপাদন বেশি। তারপরও অদৃশ্য বলয়ের শক্তিতে লোডশেডিং থাকেই। তবে শীতকালে চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিং অপেক্ষাকৃত কম হয়। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রশ্নে সাধারণ মানুষের ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও ভিভিআইপি গ্রহকরা ব্যতিক্রম। বিদ্যুৎ খাতের বড় সমস্যা এখন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপচয়। যা বিভিন্ন গবেষণাসহ গণমাধ্যমেও প্রায়শই উঠে আসে। সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত জরুরি।

বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি-গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের জরিপে দেখা গেছে, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ৮ শতাংশ গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত ফি এর বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। প্রায় ১৯ শতাংশের অভিযোগ লোডশেডিং নিয়ে। ১৫ হাজার ২৪৫ জন গ্রাহকের ওপর এই নমুনা জরিপটি করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯১ শতাংশ গ্রাহক আবাসিক খাতের। অন্যরা শিল্প, বাণিজ্য ও কৃষিসেচ খাতের। জরিপের যে ইতিবাচক দিকটি উঠে এসেছে, তা হলো অনলাইন মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ। এ প্রক্রিয়াকে ৯৯ শতাংশ গ্রাহক ইতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

জরিপে প্রায় ৩৪ শতাংশ গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ার কথা বলেছেন। দিনে গড়ে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন ৫৮ শতাংশ গ্রাহক। আর এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন ২১ শতাংশ গ্রাহক। এছাড়া বিদ্যুৎ সেবা নিয়ে বিতরণ সংস্থার কাছে ফোনে বা সরাসরি নিয়মিত যে অভিযোগ গ্রাহকরা করেছেন তার প্রায় ৬৪ শতাংশ বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ৩৪ শতাংশ লোডশেডিং নিয়ে।

এ খাতে অবাধ তথ্য প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন যত করা যাবে, গ্রাহকের সেবা তত উন্নত হবে। সুতরাং আধুনিকায়নে কোন অবহেলা কাম্য নয়। সরকার একদিকে বিদ্যুৎ খাতে মোটা অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকদেরও বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। তাহলে ভর্তুকির সুবিধা কারা পাচ্ছেন? সাধারন গ্রাহক, না ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকেরা? ২০১০ সালে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল সাময়িক সমস্যার সমাধানের জন্য। কিন্তু সে সাময়িক ব্যবস্থা এক দশকের বেশি সময় ধরে চলেছে যা এখাতের সুশাসনের পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। সুতরাং সরকারকে কোটি কোটি টাকার ভর্তুকি জনসেবার মান উন্নয়নের জন্যই হতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক, এটাই জনপ্রত্যাশা।